ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ফেনী অংশে অনুমোদনহীন ১২ ক্রসিং
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ফেনী অংশের শর্শদী থেকে মুহুরীগঞ্জ পর্যন্ত দৈর্ঘ্য ২৩ কিলোমিটার। রেলপথের এ দূরত্বে ২১টি রেলক্রসিং থাকলেও অনুমোদন ছাড়াই তৈরি হয়েছে ১২টি। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) রিটন চাকমা। তিনি বলেন, এ পরিসংখ্যানটি হালনাগাদ নয়। প্রতিনিয়ত ইচ্ছেমতো রেললাইনের ওপর দিয়ে পথ তৈরি করা হচ্ছে।
রিটন চাকমা আরও বলেন, অনুমোদনহীন এসব ক্রসিংয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে মুহুরীগঞ্জে। এখানে ছয়টি অনুমোদনহীন রেলক্রসিং তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া শর্শদী, দেওয়ানগঞ্জ, ফাজিলপুরে রয়েছে আরও ছয়টি। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে মুহুরীগঞ্জ।
অনুমোদনহীন এসব রেলক্রসিং প্রসঙ্গে ফেনী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মীর মোহাম্মদ ইমাম বলেন, রেলপথের পাশে বসতঘর থাকায় বিভিন্ন সময় অনুমোদনহীন ক্রসিং তৈরি করা হয়। ফলে দুর্ঘটনার শঙ্কা অনেক বাড়ছে।
গত শুক্রবার (২৯ জুলাই) মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনায় একসঙ্গে ১১ তরুণের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে নিরাপদ রেলক্রসিংয়ের বিষয়টি ফের সামনে উঠে আসে।
অনুমোদনহীন রেলক্রসিং ছাড়াও আরও কিছু অসামঞ্জস্য, বিকল প্রযুক্তি রেলপথকে আরও দুর্ঘটনাপ্রবণ করে তুলছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিকল সিগন্যাল বাতি, অনুমোদিত রেলক্রসিংগুলোতে গেটকিপারদের দায়িত্বে অবহেলা, পথচারী ও যানবাহন চালকদের অসচেতনতা, পূর্বের দুর্ঘটনার যথাযথ তদন্ত প্রকাশ্যে না আসা, সব স্থানে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা না থাকা প্রভৃতি দুর্ঘটনার শঙ্কা বাড়াচ্ছে।

ফেনী শহরের ব্যস্ততম পুরাতন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গুদাম কোয়ার্টারের রেলক্রসিংকে সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদুল হক বলেন, ট্রেন আসার আগে ক্রসিংয়ে গেট ফেলেও যানবাহন চালকদের আটকে রাখা যায় না। স্বয়ংক্রিয় সাইরেনের শব্দ পথচারীদের কানে আলোড়ন তুললেও চালকদের তাতে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। অনেক দূর থেকে ট্রেন হুইসেল বাজিয়ে সাবধান করতে করতে এগোতে থাকে। কিন্তু ক্ষুদ্র পরিবহনগুলো সামান্য অপেক্ষা করতে রাজি নয়। এমনও ঘটেছে, রেলক্রসিংয়ের ওপর যানবাহন রয়ে যাওয়ায় ট্রেন থামাতে বাধ্য হয়েছেন চালক। এ ক্রসিংয়ে বহুবার ঘটেছে হতাহতের ঘটনা।
সাত মাসে ট্রেনে কাটা পড়ে ৯ জনের মৃত্যু
চলতি বছরের সাত মাসে রেলপথের ফেনী অংশে ট্রেনে কাটা পড়ে ৯ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনায় ৯টি অপমৃত্যুর মামলাসহ ১২ মামলা রেকর্ড হয়েছে। এসব তথ্য জানিয়েছে রেলওয়ে পুলিশের ফেনী ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) নফিল উদ্দিন। এছাড়া চলতি বছরের তিনটি ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে গত বছরের ১১ অক্টোবর ভোরের দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফতেহপুর রেলক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী বাস রেললাইনে উঠে পড়লে ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে। এতে চার ব্যক্তি প্রাণ হারান। এছাড়া বারাহীপুর রেলক্রসিং, শহরের রেলগেট ক্রসিংয়ে সম্প্রতি দুর্ঘটনা ঘটে এবং প্রাণহানিও হয়।
এমআরআর/জেআইএম