সাপের কামড়ে সংকটাপন্ন, সুস্থ হয়ে চিকিৎসকদের শুভেচ্ছা বৃদ্ধের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৪:৫৮ পিএম, ০২ আগস্ট ২০২২

মাঠের জমিতে সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন ৬০ বছরের জুরু মিয়া। পরিবারের সদস্যরা তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা দুদিন চিকিৎসা দিয়ে তাকে সুস্থ করে তোলেন।

সুস্থ হয়ে মঙ্গলবার (২ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ ফুলেল শুভেচ্ছা জানান বৃদ্ধ জুরু মিয়া।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী উপজেলা বিজয়নগরের বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের দুলালপুরের নুরু মিয়ার ছেলে মো. জুরু মিয়া (৬০)। রোববার (৩১ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে মাঠের জমি দেখতে যান। এ সময় পেছন থেকে বিষাক্ত কিছু তার পায়ে কামড় দেয়। ক্ষতস্থান দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে। এই অবস্থায় তিনি বাড়িতে চলে যান।

এ ঘটনার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন জুরু মিয়া। তখন পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেন তাকে বিষাক্ত সাপ কামড় দিয়েছে। এ অবস্থায় তার পায়ের ওপরে রশি দিয়ে বেঁধে দ্রুত জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে যখন পৌঁছেন তখন প্রায় বিকেল ৫টা। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে প্রাথমিক ওষুধ দিয়ে দ্রুত ভর্তি করেন নেন।

তারপরও সাপের বিষক্রিয়ায় জুরু মিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখেন চিকিৎসকরা। পরে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ কয়েকজন চিকিৎসক পরামর্শ করে সাপের কামড়ের চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখেন। দুদিন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ওঠেন জুরু মিয়া।

সুস্থ হওয়ার পর মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে চিকিৎসক ও নার্সদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান জুরু মিয়া। এ সময় চিকিৎসকরাও তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

জুরু মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রথমে আমি কিছু বুঝে উঠতে পারিনি। শরীর যখন দুর্বল হয়ে ওঠে, তখন বুঝতে পারি বিষাক্ত কিছু আমাকে কামড় দিয়েছে। আমি জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাদের চিকিৎসাসেবায় আমি নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি।’

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ওয়াহীদুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে ওই ব্যক্তি আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। অবশেষে আমাদের চিকিৎসক ও নার্সদের আন্তরিক চিকিৎসায় তিনি সুস্থ হয়ে উঠেছেন। আশা করছি, ভবিষ্যতেও যদিও সাপে কাটা কোনো রোগী আসেন তাহলে আমরা অ্যান্টিভেনমের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারবো।’

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।