মদনে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কর্মচারীদের অনাস্থা
নেত্রকোনার মদন উপজেলা জনস্বাস্থ্যের উপ-সহকারী প্রকৌশলী এএসএম আল-মামুনুর রশীদের অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদে কর্মবিরতি পালন করেছেন ওই অফিসের কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) সকাল থেকে ওই অফিসের কর্মচারীরা নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ থেকে বিরত থাকেন।
এর আগে ওই অফিসের ছয় কর্মচারী জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর ছয়জন কর্মচারী লিখিত অনাস্থার অভিযোগ দায়ের করেন। এছাড়া শামীম ও মোস্তাফিজ নামের দুই মেকানিক পৃথক আরেকটি অভিযোগ করেন।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, উপজেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী এএসএম আল-মামুনুর রশীদ ঘুস নিয়ে সুবিধাভোগীদের নামে গভীর নলকূপ বরাদ্দ দেন। দাপ্তরিক কাজকর্ম রেখে তিনি অধিকাংশ সময় মোবাইল চেটিংয়ে ব্যস্ত থাকায় সুবিধাভোগীদের ফোন রিসিভ করেন না। ঘুস দিয়েও সময়মতো নলকূপ না পেয়ে সুবিধাভোগীরা অফিসে গিয়ে কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। এমন কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে কর্মচারীরা মামুনুর রশীদের অপসারণ চেয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর বরাবর একমাস আগে অনাস্থা দেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মামুনুর রশীদ তার অফিসের মেকানিক মোস্তাফিজ ও শামীমকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এ ঘটনায় মেকানিক মোস্তাফিজ ও শামীম ১ আগস্ট আরেকটি পৃথক অভিযোগ দেন। কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন ওই অফিসের কর্মচারীরা।
মদন জনস্বাস্থ্য অফিসের মেকানিক শামীম বলেন, তার অপকর্ম ও ঘুস বাণিজ্যের জন্য কর্মচারীরা অনাস্থা দিয়েছে। তার স্ত্রী পুলিশের চাকরি করার সুবাধে আমাদের মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। আমরা এ নিয়ে আতংকে রয়েছি।
উপজেলা জনস্বাস্থ্যের উপ-সহকারী প্রকৌশলী এএসএম আল-মামুনুর রশীদ জানান, অফিসের কর্মচারীরা কেউ ঠিকমতো অফিস করে না। এ বিষয়ে জানতে চাওয়ায় আমার বিরুদ্ধে কর্মচারীরা অভিযোগ দিয়েছেন। আমি কোনো রকম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই।
জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান জানান, প্রকৌশল অফিসের অপকর্মের প্রতিবেদন বুধবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ অফিসের প্রত্যেককে অচিরেই বদলি করা প্রয়োজন।
এইচ এম কামাল/আরএইচ/জেআইএম