ইন্দোনেশিয়া থেকে এলো রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা
ইন্দোনেশিয়া থেকে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি কয়লা আমদানি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) বিকেলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটিতে তিনটি লাইটারেজ জাহাজে করে কয়লা আসার পর তা খালাস শুরু হয়েছে।
রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আনোয়ারুল আজীম রাত পৌনে ৯টায় দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এই প্রথম রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য জ্বালানি কয়লা আমদানি করা হয়েছে। বাংলাদেশের পতাকাবাহী এম ভি আকিজ হেরিটেজ জাহাজে করে ইন্দোনেশিয়া থেকে এই কয়লা এসেছে।
আনোয়ারুল আজীম আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস হওয়া ১৮ হাজার ৬৫০ টন কয়লা লাইটারেজে (নৌযান) করে এখানে আনা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে এই কয়লা খালাসের কাজ শুরু হয়। এখন থেকে ধারাবাহিকভাবে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি কয়লা আসবে।

এদিকে, জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট টগি শিপিংয়ের ব্যবস্থাপক মো. খন্দকার রিয়াজুল হক বলেন, গত ২০ জুলাই ইন্দোনেশিয়ার তানজুম ক্যাম্ফা বন্দর থেকে ৫৪ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে আকিজ হেরিটেজ জাহাজটি ছেড়ে আসে। এরপর ৩১ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজটি ভিড়ে সেখানে ১৮ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন কয়লা খালাস করে। পরে ৩৬ হাজার টন কয়লা নিয়ে মোংলা বন্দরের উদ্দেশে জাহাজটি ছেড়ে আসে। শুক্রবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় মোংলা বন্দরের হাড়বাড়ীয়া-১১ নম্বর বয়ায় জাহাজটি অবস্থান করবে।
আমদানি করা এই কয়লা দিয়ে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পরীক্ষামূলক চালানো হবে। তারপর অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিক উৎপাদনে যাবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি।
রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্র জানায়, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির মূল অবকাঠামো নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে ভারত হেভি ইলেক্ট্রিক্যালস লিমিটেড (বিএইচইল) নামে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংস্থা। ২০১০ সালে ভূমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। ২০১২ সালে আনুষ্ঠানিক শুরু হয় নির্মাণ কাজ। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণে মোট ১৬ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। এখান থেকে দুই ইউনিটে ৬৬০ মেগাওয়াট করে ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা রয়েছে।
এমআরআর