চিরিরবন্দর উপজেলা যুবলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ০৩:৫৪ পিএম, ০৬ আগস্ট ২০২২

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলা যুবলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মারধর, হত্যার হুমকি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে কয়েকজন ভুক্তভোগী। তার এসব কর্মকাণ্ডে উপজেলার অনেক পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন।

শনিবার (৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দিনাজপুর প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন চিরিরবন্দর উপজেলার পূর্ব সাইতারা গ্রামের আফতাবুজ্জামানের স্ত্রী লাভলী আরা। এ সময় ভুক্তভোগী শাহজাহান আলম, সোহেল মাহমুদসহ তাদের সন্তানরা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে লাভলী আরা বলেন, আমার স্বামী আফতাবুজ্জামান চিরিরবন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীনে রানীরবন্দর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে উপ-সহকারী কমিউনিটি কর্মকর্তা। গত ১৮ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে চিরিরবন্দর আমেনা বাকী স্কুল গেটের সামনে যুবলীগ নেতা সুমন দাস, আক্কাস আলী, শাকিল ইকবাল, মোস্তাফিজুর রহমান লাল, দবিরুল ইসলাম, রতন বর্মণসহ আরও ৭-৮ জন মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। পরে তার ওপর হামলা চালিয়ে সেখানে মাহবুবের চায়ের দোকানে পিছনে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাকে কিলঘুষি মেরে আহত করে। এক পর্যায়ে সুমন দাস আমার স্বামীর গলায় ধারালো ছুরি ধরে ও অন্যরা লাঠিসোটা দিয়ে মারধর করেন। এসময় তার পকেট থেকে পাঁচ হাজার টাকা বের করে নেন। পরে বাকি চার লাখ ৯৫ হাজার টাকা দিনের মধ্যে দেয়ার হুমকি দেন। পরে বিষয়টি টের পেয়ে কেউ একজন পুলিশকে জানালে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ২০ জুলাই আফতাবুজ্জামান আদালতে মামলা করেন। মামলার পর ২২ জুলাই সুমন দাসের লোকজন ঘুঘুরাতলী কাঁচাবাজার এলাকায় আটক করে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেন। পরদিন এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলে আবারও ২৪ জুলাই সুমন দাস ও তার লোকজন তাকে আটক করে মারধোরের করার সময় এলাকাবাসী উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ওইদিনই আদালতে আরেকটি মামলা করেন তিনি।

jagonews24

তিনি আরও জানান, শুধু একটি ঘটনাই নয়, সুমন দাস ও তার লোকজন ‘শিশির ক্যাবল নেটওয়ার্ক’ ডিস লাইন ব্যবসায়ী মোছা. সেলিনা পারভীনের কাছ থেকে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা নেন। তার কাছে প্রতি মাসে এক লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় গত ২০ জুন রাতে তার এক কর্মীকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করে আহত করেন। এ ব্যাপারে ১২ জুলাই সেলিনা পারভীন বাদী হয়ে চিরিরবন্দর থানায় চাঁদাবাজির মামলা করেন।

উপজেলার চিরিরবন্দর গ্রামের ইউসুফ আলী সুমন দাসের বিরুদ্ধে ১২ শতক জমি দখলে নেওয়ার হুমকির অভিযোগে মামলা করেন। ক্রয়করা জমিতে বাউন্ডারি দেওয়ার সময় উপজেলার দক্ষিণ সুকদেবপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে মাহির উদ্দিনের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে যুবলীগ নেতা সুমন দাস। এ অভিযোগে মামলা করেন ব্যাংক কর্মকর্তা মহির উদ্দিন।

সংবাদ সম্মেলনে সুমন দাসের হাত থেকে উল্লেখিত পরিবারগুলোকে রক্ষা করতে তাকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

এ ব্যাপারে জানতে সুমন দাসের মোবাইলে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মোবাইলে ক্ষুদেবার্তা দেওয়ার পরও কোনো জবাব দেন নাই।

জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ পারভেজ বলেন, বেশ কিছু ভুক্তভোগী আমার কাছে অভিযোগ করেছেন। এ সপ্তাহের মধ্যে দল থেকে থেকে তাকে বহিষ্কার করা হবে। আমরা সুপারিশ করেছি। এখন কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত নিবে। কেন্দ্রের কাছে কাগজপত্র পৌঁছালে কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নিবেন।

এমদাদুল হক মিলন/আরএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]