সড়ক তো নয় যেন পুকুর!
পিচঢালাই উঠে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে বড়বড় খানাখন্দের। দিনদিন এসব খানাখন্দ বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। বৃষ্টিতে এসব গর্তে হাঁটু সমান পানি জমে থাকে। দেখে মনে হয় ছোটখাটো পুকুর। এতে প্রতিদিন উল্টে পড়ছে যানবাহন। আহত হচ্ছেন যাত্রীরা। কাদাপানি ছিটকে কাপড়চোপড় নষ্ট হচ্ছে।
নেত্রকোনা শহরের ইসলামপুর মোড় থেকে শিবগঞ্জ এলাকার স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির কার্যালয় পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার সড়কে (শিবগঞ্জ সড়ক) বিরাজ করছে এমন বেহাল অবস্থা। কিন্তু রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণে কর্তৃপক্ষের নেই কোনো নজর।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন এ সড়ক দিয়ে আটপাড়া উপজেলা ছাড়াও নেত্রকোনা সদর উপজেলার আমতলা ইউনিয়ন ও নেত্রকোনা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা নিয়মিত যাতায়াত করেন। জেলা সদরে আসার জন্য এটিই তাদের একমাত্র সড়ক। এছাড়া সড়কটির পাশেই রয়েছে এনজিও সংস্থা স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির কার্যালয়, স্বাবলম্বী পরিচালিত একটি হাসপাতাল ও কয়েকটি মাদরাসা।
ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা সেলিম মিয়া বলেন, ‘কোনো রিকশা বা অটোরিকশাচালক এ সড়কে আসতে চায় না। কোনো মালামাল আনা নেওয়া করা সম্ভব হয় না। জুতা পায়ে হেঁটেও যাওয়া যায় না। বড় বড় কয়েকটি গর্তে প্রতিদিন যানবাহন উল্টে বা আটকে পড়ে। এতে অনেকেই আহত হন। যানবাহনও নষ্ট হয়।’
স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির কর্মকর্তা ও ওই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কদ্দুছ বলেন, ‘গর্তগুলো আগে ছোট ছিল। তখন সামান্য খোয়া বা বালু দিয়েই মেরামত করা যেত। কিন্তু কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নেয়নি। এখন গর্তগুলো পুকুরের মতো হয়ে গেছে। সেখানে এখন হাঁটুসমান পানি। আমাদের প্রতিদিন হাঁটুপানি মাড়িয়ে পথ চলতে হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সড়কটির ভগ্নদশা নিয়ে এলজিইডির সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। একদিন তাদের মোবাইল মেনটেইন্যান্স টিম এসে অপেক্ষাকৃত কম ভাঙা জায়গায় কিছু ইট বিছিয়ে চলে গেছে। কিন্তু যেখানে বেশি ভাঙা সেখানে কিছুই করেনি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহিম শেখ জাগো নিউজকে বলেন, ‘অনেক রাস্তাই এমন খারাপ। কোনটা রেখে কোনটার কাজ করবো? তবুও মোবাইল মেনটেইন্যান্স টিমের মাধ্যমে রাস্তাগুলো ভালো রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
এইচ এম কামাল/এসজে/এএসএম