যৌতুক দাবিতে স্ত্রীকে হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৮:৫৪ পিএম, ০৮ আগস্ট ২০২২
প্রতীকী ছবি

যশোরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে ১৮ বছর পর ওসমান আলী নামের এক আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৮ আগস্ট) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক নীলুফার শিরিন এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওসমান আলী ঝিকরগাছা উপজেলার দিঘড়ি গ্রামের আক্কাজ আলীর ছেলে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার সোনাকুড় গ্রামের সন্তোষ আলীর মেয়ে রাশিদা খাতুনকে বিয়ে করেন ওসমান আলী। একটি সন্তানের জন্মের পর থেকে ওসমান যৌতুকের দাবিতে রাশিদার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে শুরু করেন। ২০০৪ সালের ৭ মার্চ রাতে ওসমান আলী বাড়িতে কয়েকজন বন্ধু নিয়ে আসেন।

গভীর রাত পর্যন্ত তারা আনন্দ-ফুর্তি করেন। পরদিন সকালে ঘর থেকে রাশিদার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনার পর থেকে ওসমান আলী পলাতক।

এ ঘটনার পাঁচদিন পর নিহত রাশিদার বাবা সন্তোষ আলী বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা করেন। মামলায় ওসমান আলীসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়।

আদালতের আদেশে ওই বছরের ৩ মে ঝিকরগাছা থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ পাওয়ায় ওই বছরের ৪ জুলাই ওমসান আলীকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হাবিবুর রহমান। অভিযোগপত্রে অপর চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের অব্যাহতির আবেদন জানানো হয়।

দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামি ওসমান আলীর বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।

মিলন রহমান/এসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।