নীলফামারীতে কেজিতে ৫-৮ টাকা বেড়েছে চালের দাম

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী
প্রকাশিত: ০৭:২১ পিএম, ১২ আগস্ট ২০২২

নীলফামারীতে বেড়েই চলেছে চালের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বস্তাপ্রতি পাইকারি বাজারে ২০০-৩০০ টাকা বেড়েছে। খুচরায় প্রতি কেজি চালের দাম বেড়েছে ৫-৮ টাকা পর্যন্ত। চালের দামের এই অগ্নিমূল্যের কারণে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও বিদ্যুতের অব্যাহত লোডশেডিংয়ের কারণে চালের দাম বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চাল ব্যবসায়ীরা।

জেলার প্রায় সবকটি চালের বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোটা চাল ৫৪ টাকা ,হাইব্রিড ৪৬ টাকা, ২৮ চাল ৫৭-৫৭ টাকা, মিনিকেট ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

নীলফামারী শহরের উকিলের মোড় এলাকার বাসিন্দা মো. বিপ্লব। তিনি বলেন, দুই সপ্তাহ আগেই গুটি স্বর্ণ চালের ৫০ কেজির বস্তার দাম ছিল ২৪০০ টাকা। আজ চাল কিনতে এসে জানতে পারি সেই চালের বস্তা এখন ২৭৫০ টাকা। এক বস্তা চালে ৩৫০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে।’

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘শুধু চাল নয় সব কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। আমাদের মতো মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষদের বেঁচে থাকা দায় হয়ে পড়েছে।’

jagonews24

পৌরশহরের টার্মিনাল এলাকার শাহানাজ নামে এক নারী বলেন, চাল কিনতে এসে জানতে পারি প্রতি ৫০ কেজির বস্তায় ৪০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের আয় নির্দিষ্ট। সেই আয়ের টাকা দিয়েই আমাদের সংসার ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চলে। যেভাবে প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়ছে তাতে আমাদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।’

খড়ি কুড়িয়ে বাজারে বিক্রি করে যে টাকা পান তা দিয়ে সংসার চলে বৃদ্ধা আহি খাতুনের। তিনি বলেন, ‘সারাদিন খড়ি সংগ্রহ করে বিকালে সেই খড়ি বাজারে বিক্রি করি। এতে যা পাই তা দিয়ে চাল ও শাক কিনে জীবন বাঁচাই। আজ বাজারে গিয়ে দেখি ৪০ টাকার চাল ৪৬ টাকা হয়েছে। আমার মতো গরিব মানুষের কাছে এই ৬ টাকা অনেক কিছু।’

তবে বেশ কিছু কারণে চালের দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে যানবাহনের ভাড়া বেড়ে গেছে। তাছাড়া বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন কম হচ্ছে। আবার চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে দাম বেড়ে গেছে।

নীলফামারীর চাল ব্যবসায়ী লিটন সাহা জানান, অনেক ব্যবসায়ী চাল আমদানি করতে চাইলেও ডলারের দাম বাড়ার কারণে আমদানি করছেন না। ফলে অস্থির হয়ে পড়েছে চালের বাজার।

সৈয়দপুর শহরের এক অটো মিলের ম্যানেজার নাম না জানার শর্তে জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে প্রতি ট্রাকে ভাড়া বেড়েছে ৫-৮ হাজার টাকা। চালকলগুলোর খরচও বেড়েছে। এসব কারণে মিলগেট ও পাইকারি উভয় পর্যায়ে দাম বেড়েছে। আর এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। ফলে খুচনা বাজারে কেজি প্রতি প্রতিটি চালের দাম বেড়ে গেছে।

jagonews24

নীলফামারী শহরের চাল ব্যবসায়ী সুনীল কুন্ডু জানান, ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে এখন মিলগেটেই প্রতি ৫০ কেজি বস্তায় দাম বেড়েছে ১০০-১৫০ টাকা। ট্রাকভাড়া বেড়েছে ৫-১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। ভাড়া ও মিলগেটে চালের দাম বাড়ার এই চাপ পড়েছে খুচরা বাজারে।

ডোমার পৌর শহরের চাল ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন জানান, প্রতি বস্তায় চালের দাম বেড়েছে ২০০-৩০০ টাকা। বর্তমান পরিস্থিতিতে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মিলমালিকরা এখন চাল দিচ্ছেন না। তাদের গুদামে হাজার হাজার টন ধান থাকলেও তারা চাল উৎপাদন করছেন না। আমি এক মিলমালিককে ৮ লাখ টাকা দিয়েছি চালের জন্য। তবে এক সপ্তাহ মিল থেকে চাল আসেনি। চাল আসতে আরও এক সপ্তাহ দেরি হবে বলে মিলমালিক জানিয়েছেন।’

পৌর কচাবাজারের চাল ব্যবসায়ী নুরন্নবী জানান, দামের কারণে চাল বিক্রি কিছুটা কমে গেছে। আবার অনেকেই চাহিদার অতিরিক্ত চাল কিনছেন। ফলে চাহিদা ও তেলের দামের কারণে চালের দাম বেড়ে গেছে।

এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।