বাগেরহাটে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, বিপর্যস্ত জনজীবন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বাগেরহাট
প্রকাশিত: ০৯:৫৯ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০২২

বাগেরহাটে টানা বৃষ্টি ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে জোয়ারের পানিতে সুন্দরবনসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে তলিয়ে গেছে মাছের ঘের, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষ। বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ব্যাহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ। সুন্দরবনে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকিতে রয়েছে বন্যপ্রাণী।

বাগেরহাটসহ উপকূলীয় এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে থেমে থেমে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের, কখনো ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টিপাত ও জোয়ারের পানিতে জেলার মোংলা, শরণখোলা, রামপাল, মোরেলগঞ্জ, সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে ছোট ছোট মাছের ঘের ও পুকুর। মোংলা বন্দরে অবস্থানরত দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্য ওঠানামার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

উপকূলীয় উপজেলা মোরেলগঞ্জে পানগুছি নদীর পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে কমপক্ষে চার ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে উপজেলা সদরসহ নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলো প্লাবিত হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

রোববার (১৪ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে পানি বেড়ে পৌর শহরের বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পানি উঠে যায়। অন্যান্য দিনের চেয়ে রোববার পানির উচ্চতা ও চাপ বেশি দেখা গেছে। মোরেলগঞ্জ পৌরসভাসহ ২০টি গ্রামের শত শত মানুষ ও গৃহপালিত পশু পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

বাগেরহাট শহরের রিকশাচালক ওবায়দুল শেখ জানান, পেটের দায়ে বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকালেই তিনি বের হয়েছেন। তবে রাস্তায় যাত্রী খুবই কম। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না।

শরণখোলার খোন্তাকাটা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হাসিব জানান, গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে শরণখোলার বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে গেছে।

লঘুচাপের প্রভাবে জোয়ারের পানিতে রামপাল উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বেশ কিছু এলাকার চিংড়ি ঘের ভেসে গেছে এবং ঘর বাড়িতে পানি ঢুকে তলিয়ে গেছে।

রামপাল উপজেলার ভোজপাতিয়া ইউনিয়ন, বাঁশতলী ইউনিয়ন, পেড়িখালী ইউনিয়ন, রামপাল সদর ইউনিয়ন, হুড়কা ইউনিয়ন, রাজনগর ইউনিয়ন, বাইনতলা ইউনিয়ন ও গৌরম্ভা ইউনিয়নের কয়েকশ ঘেরের বিপুল পরিমাণ মাছ ভেসে গেছে।

ভোজপাতিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ নুরুল আমিন বলেন, হঠাৎ করে পানি বেড়ে যাওয়ায় অনেক ঘেরের বেড়িবাঁধ ভেঙে মাছ ভেসে গেছে। বিশেষ করে জিয়লমারী, বেতকাটা, চন্দ্রাখালী এলাকার সরকারি রাস্তা তলিয়ে গেছে।

গৌরম্ভা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রাজীব সরদার বলেন, কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এখনো নির্ণয় করা হয়নি।

রামপাল উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন বিশ্বাস বলেন, রামপাল সদর, রাজনগর, ভোজপাতিয়া, পেড়িখালী, বাঁশতলী, গৌরম্ভাসহ বেশ কিছু ইউনিয়নের ৪০০-৫০০ ঘের জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে। এর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। আমরা ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের চেষ্টা করছি।

কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে মোংলার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। অনেকে গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে।মোংলার পশুর নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৩-৪ বেশি উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। এতে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি। পানি বাড়ায় ফেরিঘাটের প্লাটুন ও রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় ফেরি ভিড়তে এবং যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

মোংলা বন্দরের হারবার মাস্টার কমান্ডার ফখর উদ্দিন জানান, বৃষ্টির কারণে বন্দরের পশুর চ্যানেলে ও হারবাড়িয়ায় অবস্থান করা বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে পণ্য খালাস-বোঝাই কাজ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে বন্দরের জেটিতে পণ্য ওঠানো-নামানো স্বাভাবিক রয়েছে।

করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে রোববার সুন্দরবনে সবচেয়ে বেশি পানি বেড়েছে। গতকালের চেয়ে এক ফুট বেড়ে চার ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রসহ সুন্দরবন।

তিনি বলেন, বন্যপ্রাণীরা নিজেদের রক্ষার কৌশল জানে। তাই তারা নিরাপদে রয়েছে। তবে কিছু ছোট ছোট প্রাণীর ক্ষতি হতে পারে। করমজলের প্রাণীরা নিরাপদে আছে।

এসআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।