ব্ল্যাক সোলজার মাছি থেকে তৈরি হচ্ছে মাছ-মুরগির খাবার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বাগেরহাট
প্রকাশিত: ০৯:০৩ পিএম, ১৫ আগস্ট ২০২২

খাবারের দাম নিয়ে মৎস্য ও পোলট্রি খামারিরা যখন বিপাকে ঠিক তখনই ব্ল্যাক সোলজার মাছির খামার করে সাড়া ফেলেছেন বাগেরহাটের উদ্যোক্তা তালুকদার নাজমুল কবীর ঝিলাম। উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন এই খাবার মাছ ও পোলট্রির খামারে ব্যবহার করে তিনি যেমন উপকৃত হচ্ছেন তেমনি এলাকার অন্যদেরও এর চাষে উদ্বুদ্ধ করছেন।

এই ব্ল্যাক সোলজার মূলত একটি মাছিজাতীয় প্রাণীর লার্ভা। এর পুষ্টিমান ও কম খরচের কারণে মাছ এবং পোলট্রির প্রচলিত খাদ্যের বিপরীতে এটিই ভবিষ্যতে বিকল্প খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হবে বলে জানান খামারি ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

কথা বলে জানা গেছে, বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নের সফল উদ্যোক্তা তালুকদার নাজমুল কবীর ঝিলাম। কয়েক বছর ধরে তিনি তার খামারে মাছ ও মুরগির জন্য বাজার থেকে কিনে খাবার ব্যবহার করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি। ঠিক তখনই ইউটিউব দেখে ব্ল্যাক সোলজার চাষে উদ্বুদ্ধ হন তিনি। এরপর উত্তরবঙ্গ থেকে ডিম সংগ্রহ করে তার নিজস্ব জায়গায় ব্ল্যাক সোলজারের খামার গড়ে তোলেন। এই মুহূর্তে তার খামারে দৈনিক উৎপাদন হচ্ছে একশো কেজি লার্ভা। আর তার খামারের খাবারের চাহিদা প্রায় দুইশো কেজি। খুব দ্রুতই তিনি তার খামারের চাহিদা মিটিয়ে অন্যদেরও এই খাবার সরবরাহ করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

এরই মধ্যে নাজমুলের খামার দেখে আশপাশের অনেকেই তার কাছ থেকে ডিম সংগ্রহ করেছেন এবং পরামর্শ নিয়ে তারাও এই ব্ল্যাক সোলজার চাষের চেষ্টা করছেন। এই মাছির জীবনচক্র খুবই অল্প সময়ের। ব্ল্যাক সোলজার এমনই একটি অর্গানিক ফিড যার লার্ভার পুরোটাই মাছ এবং মুরগির খাদ্য।

চাষপদ্ধতি সম্পর্কে তালুকদার নাজমুল কবীর বলেন, ব্ল্যাক সোলজারের ডিম থেকে লার্ভা উৎপাদনে প্রথমে খুব অল্প পরিমাণ ফিডপাউডার এবং পরে লতাপাতা, আগাছা ও শাক-সবজি পচা জৈব ব্যবহার করা হয়। আর মা মাছিকে চিনি মিশ্রিত পানি দিতে হয়।

তিনি বলে, বাজারে মাছ ও মুরগির এক কেজি খাবারের মূল্য যেখানে ৬০/৭০ টাকা সেখানে এক কেজি লার্ভা উৎপাদরে খরচ মাত্র ১৫/২০ টাকা। এছাড়া পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পচা জৈব পদার্থ লার্ভার খাবার হিসেবে ব্যবহার করারও সুযোগ রয়েছে। আর লার্ভাতে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকায় অল্প খাবারেই মাছ ও মুরগির পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয়ে থাকে।

আশপাশের কেউ এই মাছির খামার করতে চাইলে সবরকম সহযোগিতা করার কথা জানান খামারি তালুকদার নাজমুল কবীর ঝিলাম। বর্তমান সময়ে পোল্ট্রি ফিডের উচ্চমূল্যের বাজারে ব্ল্যাক সোলজার খামারিদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে, ব্ল্যাক সোলজার মাছির চাষ করে খামারিদের মৎস্য ও মুরগির খাবারের চাহিদা পূরণের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান।

এমআরআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।