বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিজড়িত ‘শেখ জামে মসজিদ’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী
প্রকাশিত: ০৯:৩৬ পিএম, ১৫ আগস্ট ২০২২
দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিরা নামজ পড়তে আসেন এ মসসজিদে

নীলফামারীর সদরের চড়াইখোলা ইউনিয়নের পশ্চিম কুচিয়ার মোড় ফকির পাড়া গ্রামে অবস্থিত শেখ জামে মসজিদ। ৫২ বছর আগে ছনের চালায় নির্মিত এ মসজিদে জুমার নামাজ পড়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার উপস্থিতিতেই মসজিদটির নামকরণ করা হয়। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিজড়িত এ মসজিদ দালানে রূপান্তরিত হলেও নেই কোনো সরকারি সুবিধা। অর্থের অভাবে থেমে আছে দোতলা নির্মাণ কাজ। ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনকে বেতন দিতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিচালনা কমিটিকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৭০ সালের ২৩ অক্টোবর আইয়ুব খান বিরোধী আন্দোলনে নীলফামারীর চিলাহাটিতে এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেদিন ছিল শুক্রবার। পথিমধ্যে বঙ্গবন্ধু এ মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন৷ তখন এর অবকাঠামো ছিল শুধুমাত্র ছনের চালা। সেদিন বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতেই সবার অনুমতিক্রমে মসজিদটির নামকরণ করা হয়েছিল ‘শেখ জামে মসজিদ’। দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিরা নামাজ পড়তে আসেন এ মসজিদে।

স্থানীয়রা জানান, পরবর্তীতে শেখ মুজিব আশ্বাস দিয়েছিলেন যে তিনি প্রেসিডেন্ট হলে এ মসজিদ পাকা করে দেবেন। ১৯৭২ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি হলে মসজিদ নির্মাণের জন্য ২৫ হাজার টাকা দেন। তৎকালীন সময় সেই টাকা দিয়ে মসজিদটির অবকাঠামো উন্নয়ন করে চারিদিক পাকাকরণ ও টিনের ছাদ নির্মাণ করা হয়েছিল।

মসজিদের নামকরণের সময় উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম কুচিয়ার মোড় এলাকার ষাটোর্ধ্ব ওসমান গনি ওরফে টনু। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান আমলে বঙ্গবন্ধু আসছিলেন। তখন শুধু ছনের চালা ছিল। বঙ্গবন্ধু নামাজ পড়ার পর পর মসজিদের সভাপতি উনাকে করা হয়। সে সময় মসজিদের সেক্রেটারি ছিল ওমর আলী সাহেব। বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর ২৫ হাজার টাকা দিলে টিনের চালা আর ইট দিয়ে পুনরায় মসজিদটি নির্মাণ করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি ধারক ঐতিহ্যের এ মসজিদের জন্য পরবর্তীতে ২০১৪ সালে জেলা পরিষদের অর্থায়নে ৭১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেই বরাদ্দ দিয়ে নির্মাণ হয়েছিল পাকা ভবন। প্রতিবছর বঙ্গবন্ধুর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে এ মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং মিলাত অনুষ্ঠিত হয়। তবে মসজিদের উন্নয়নে সরকারি সহযোগিতার জন্য বারবার বিভিন্ন দপ্তরে গেলেও কোনো লাভ হয়নি। মসজিদের মুসল্লিদের দানের টাকায় ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনের বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছে পরিচালনা কমিটি।’

ni-(2)

শেখ জামে মসজিদের সভাপতি আব্দুস সাত্তার জাগো নিউজকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিজড়িত এ মসজিদে আমরা কোনো সহযোগিতা পাই না। বারবার সরকারি সহযোগিতার জন্য যাই আশ্বাস দেয় করে দিবে। কিন্তু দেয় না। এখন এ অবস্থায় মসজিদে বিদ্যুৎ বিল ও বেতন মাস শেষে দেখা যায় আমার পকেট থেকে দিতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘দোতলার কাজের জন্য অনেক দৌড়ালাম কাজ আর হলো না। সবাই যদি একটু নজর দিত তাহলে হয়ত বঙ্গবন্ধুর এ মসজিদটি আরও দৃষ্টিনন্দন হতো।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ইয়াসির আরেফিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘এটি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত একটি মসজিদ। এখানে তিনি ১৯৭০ সালে এসে নামাজ পড়েছিলেন এবং এর অবকাঠামো উন্নয়নে তিনি বরাদ্দও দিয়েছিলেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ মসজিদের বিষয়ে দেখা হবে।’

এসজে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।