হোস্টেলে পানি-বিদ্যুৎ সমস্যা, ধর্মঘটে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা
আবাসিক হোস্টেলে পানি ও বিদ্যুৎ সমস্যা নিরসনের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন পাবনা জেনারেল হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
বুধবার (১৭ আগস্ট) রাত থেকে তারা কর্মবিরতি পালন শুরু করেন। কর্মবিরতি চলায় রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সেখানে চিকিৎসা না পেয়ে বেশ কিছু রোগী অন্য হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চলে গেছেন।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগ, গত ৩-৪ মাস ধরে তাদের আবাসিক হোস্টেলের চতুর্থ তলায় পানি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। এতে তাদের গোসল, খাওয়া, টয়লেটসহ বিভিন্ন কাজে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেননি। এজন্য আবাসিক হোস্টেলে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিতে কর্মবিরতি পালন শুরু করেছেন তারা।
পাবনা মেডিকেল কলেজ ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি স্বপ্নীল হোসেন বলেন, ৩-৪ মাস ধরে হোস্টেলে পানি ও বিদ্যুৎ সমস্যা চলছে। ওয়াশরুমে পানি থাকে না, বিদ্যুৎ থাকে না। বিভিন্ন সময়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বিষয়টির প্রতি কোনো গুরুত্ব দেননি। হোস্টেলে পানি না থাকায় চিকিৎসকদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

এদিকে চিকিৎসকদের ধর্মঘটের কারণে সেবা থেকে বঞ্ছিত হচ্ছেন রোগীরা। অনেকে চিকিৎসাসেবা না পেয়ে হাসপাতাল ছেড়ে অন্য হাসপাতাল বা ক্লিনিকে চলে যাচ্ছেন।
বুধবার (১৭ আগস্ট) রাতে জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া গ্রামের আফসার আলী (৫২)। কিন্তু কোনো চিকিৎসক তাকে না দেখায় তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করছিলেন।
আফসার আলী বলেন, ‘ডাক্তাররা রোগী দেখছেন না। আর নার্সরা তো সব কিছু বোঝে না। তাই চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছি।’
পাবনার বেড়া উপজেলার কাশীনাথপুরের বাসিন্দা মোমেনা খাতুন (৩২) জানান, তার স্বজন স্ট্রোকের রোগী। কিন্তু কোনো চিকিৎসা তারা পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে
তিনি রোগী নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করছেন। তার মতো অনেকেই সদর হাসপাতাল ছেড়ে অন্য হাসপাতাল বা ক্লিনিকে চলে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. ওমর ফারুক মীর জাগো নিউজকে বলেন, পানি ও বিদ্যুৎ সমস্যা সামধানের চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী আনা হয়েছে। তবে এগুলো স্থাপন করতে একটু সময় লাগবে। এগুলো স্থাপন শেষ হলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
আমিন ইসলাম জুয়েল/এসআর/জিকেএস