একদিনে ৫০ টাকা কমলো কাঁচামরিচের দাম
পাবনার ঈশ্বরদীতে একদিনের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম পাইকারি বাজারে প্রতি কেজিতে ৫০ টাকা কমেছে। শুক্রবার (১৯ আগস্ট) প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়। একদিন পরই রোববার (২১ আগস্ট) দাম কমে ৯০ টাকা হয়েছে। খুচরা বিক্রেতারা বিক্রি করছেন ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে।
ঈশ্বরদী বাজারের কাঁচামালের আড়ত ও পৌর কাঁচাবাজার ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে।
ঈশ্বরদী বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী মো. আজাদ জানান, এক সপ্তাহ ধরে কাঁচামরিচের দাম কমতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহের শুরুতেই আড়তে কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ১৮০ টাকা কেজি দরে। এরপর প্রতিদিনই কেজি প্রতি দাম কমেছে ১০ টাকা থেকে ২০ টাকা করে। সর্বশেষ শুক্রবার ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও শনিবার থেকে কাঁচামরিচ ১০০ ও ৯০ টাকা দরে বিক্রি শুরু হয়। আজ রোববারও কাঁচামরিচ ৯০ টাকা কেজি।

কাঁচামাল আড়তের কাঁচামরিচ বিক্রেতা গিয়াস উদ্দিন জানান, প্রতি কেজি কাঁচামরিচ রোববার পাইকারি ৯০ টাকা বিক্রি হলেও খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা দরে। বাজারে কাঁচামরিচের সরবরাহ প্রায় স্বাভাবিক হতে চলেছে। আরো দাম কমবে।
তিনি জানান, ঈশ্বরদীতে বেশিভাগ মরিচ আসে পাবনার আতাইকুলা, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ও বগুড়া থেকে। স্থানীয়ভাবে চাষিরা এখন আর মরিচের আবাদ করেন না। বাজারে ভারতীয় মরিচ ঢোকার পর দাম কমতে শুরু করেছে। এখন ভারতের মরিচের প্রয়োজন নেই, দেশি মরিচ আড়তে পর্যাপ্ত রয়েছে। যখন দাম বেড়েছিল তখন মরিচের উৎপাদন কম ছিল। পাশাপাশি বড় ব্যবসায়ীদের কিছুটা কারসাজিও ছিল।
ঈশ্বরদী পৌর সবজি বাজারের ব্যবসায়ী আলতাব হোসেন জানান, পৌর মার্কেটে খুচরা বিক্রির পাশাপাশি পাইকারি বেচাকেনা হয়। আজ বাজারে কাঁচামরিচ ৯০ থেকে ১০০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে। মরিচের দাম কম থাকলে ক্রেতা-বিক্রেতা দু’পক্ষই স্বস্তিতে থাকে।
দৈনিক পৌর সবজি বাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, আমি শুধুমাত্র কাঁচামরিচের ব্যবসা করি। ১৫ দিন আগে এখানে কাঁচামরিচ সর্বোচ্চ ২৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে দাম কমতে শুরু করেছে। এখন ৯০ থেকে ১০০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে।

পাবনা জেলার সবচেয়ে বড় মরিচ-পেঁয়াজের হাট হিসেবে পরিচিত আতাইকুলা হাটের ব্যবসায়ী আবুল কাশেম মুঠোফোনে জাগো নিউজকে জানান, পাবনার চরাচরাঞ্চলে প্রচুর কাঁচামরিচের চাষাবাদ হয়। এ মরিচ বৈশাখ থেকে আষাঢ় মাস পর্যন্ত এখানে বেচাকেনা হয়। আষাঢ় মাসের পর চরাঞ্চলে কাঁচামরিচ পাওয়া যায় না। এখন পাবনার চরাঞ্চলে কাঁচামরিচ নেই। আতাইকুলা হাটে কুষ্টিয়া, বগুড়া, মধুখালী থেকে মরিচ এসেছে। আজ রোববার মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। এখন যদি পাবনার চরাঞ্চলের মরিচ থাকতো তাহলে এ হাটে মরিচের দাম সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো।
এফএ/জেআইএম