ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৯:২৮ পিএম, ২২ আগস্ট ২০২২

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার একটি মাদরাসায় মৃত্যুঝুঁকি মাথায় নিয়ে জরাজীর্ণ ভবনে চলছে শিক্ষাকার্যক্রম। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অভিভাবকরাও। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার লিখিতভাবে জানিয়েও ভবন সংস্কারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বারাংকুলা জে এস ডি মাদরাসাটি ১৯৭৯ সালে স্থাপিত হয়। বর্তমানে মাদরাসাটিতে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী ও ১৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। ১৯৯৪ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্ট থেকে তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। তিনটি কক্ষের মধ্যে একটিতে চলে অফিসের কার্যক্রম। অপর দুইটিতে পরিচালিত হয় পাঠদান কার্যক্রম। এছাড়া ছোট ছোট দুইটি টিনশেড ঘর থাকলেও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাস পরিচালনা সম্ভব হয় না।

সরেজমিনে দেখা যায়, ১৯৯৪ সালে নির্মিত মাদরাসা ভবনটি ২০১৯ সাল থেকে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন ভবনের ছাদ ও দেওয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ে। কক্ষের ভেতরের দেওয়ালে ফাটল ধরেছে। বৃষ্টি হলে ছাদ চুয়ে পানি পড়ায় দেওয়ালগুলো শ্যাওলা ধরে স্যাঁতসেঁতে হয়ে গেছে। মাদরাসা প্রাঙ্গণে ছোট ছোট অপর দুইটি টিনশেড ঘর থাকলেও সেগুলো বয়সের ভারে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে সবসময় দুর্ঘটনার আতঙ্কে থাকেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও সেখানে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষকরা জানান, আরসিসি পিলার ও গ্রেট বিমগুলোতে ফাটল দেখা দেওয়ায় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা ভয়ে ভয়ে ক্লাস করে থাকে। ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অনেক অভিভাবক তাদের ছেলেমেয়েকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুরছালিনা খানম, অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাঈম শেখ, সোহাগ হোসেন, রাকিব শেখ জাগো নিউজকে জানায়, প্রায় দিনই মাদরাসা ভবনের পলেস্তারা খসে খসে পড়ে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। সামনে আমাদের পরীক্ষা। তাই মাদরাসা ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাধ্য হয়ে ক্লাস করছি। আমরা সবসময় ভবনটি ধসে পড়ার আতঙ্কে থাকি।

এ বিষয়ে বারাংকুলা জে এস ডি মাদরাসার সুপার এম এ শাহিন মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষর কাছে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছেও লিখিত আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো ফল আসেনি।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম জাহিদুল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় রেজুলেশন করা হয়েছে। মাদরাসাটিতে নতুন ভবনের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিগগির শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হবে।

এন কে বি নয়ন/এমআরআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।