বরই গাছে চড়ুইয়ের মেলা

জাহিদ পাটোয়ারী
জাহিদ পাটোয়ারী জাহিদ পাটোয়ারী , কুমিল্লা
প্রকাশিত: ০৮:৫৭ এএম, ২৯ আগস্ট ২০২২

প্রযুক্তির ব্যবহারসহ নানান কারণে চিরচেনা চড়ুই পাখি এখন প্রায় বিলপ্তির পথে। আগের মতো বাসা-বাড়ির জানালা বা ছাদে এখন আর চড়ুই পাখির কিচিরমিচির শোনা যায় না। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানে গিয়ে দেখা মিলেছে এ চড়ুই পাখির এক অপরূপ দৃশ্য। সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে বসে চড়ুই পাখির মেলা। আলো-আঁধারে গাছে গাছে খেলায় মেতে ওঠে পাখির দল। কিচিরমিচির শব্দে চারপাশকে জাগিয়ে তোলে হাজারো পাখি। মুগ্ধ হয়ে চেয়ে থাকেন যাত্রাবিরতি নেওয়া দূরপাল্লার বাসের শত শত যাত্রী।

গত ৫ বছর ধরে হোটেলটির চারপাশের বিভিন্ন গাছে অন্তত ৫ সহস্রাধিকেরও বেশি পাখি রাত্রীযাপন করে নিরাপদে। পাখি রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ও দর্শনার্থীরা।

jagonews24

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন সূর্যাস্তের পর থেকে দলবেঁধে ছুটে আসে হাজার হাজার চড়ুই পাখি। সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত তাদের কিচিরমিচিরে মুখর থাকে মহাসড়ক সংলগ্ন সদর দক্ষিণ উপজেলার হোটেল নূরজাহান এলাকা। যাত্রাবিরতি নেওয়া দূরপাল্লার বাসের যাত্রীরা হোটেলের পশ্চিম পাশে ছোট্ট একটি বরই গাছের নিচে গিয়ে অপলোক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন।

গাছটিতে পাতার চেয়ে যেন চড়ুই পাখি বেশি। একেকটি ডালে বসে আছে শত শত পাখি। তাদের কিচিরমিচির শব্দ আর লাফালাফিতে বাড়তি আনন্দ উপভোগ করেন দূর গন্তব্যের যাত্রী ও স্থানীয়রা।

jagonews24

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৫-৬ বছর ধরে হঠাৎ বরই গাছসহ এই এলাকায় বেশ কয়েকটি গাছে রাতের বেলা পাখিদের বসতি গড়তে দেখা যায়। প্রথম দিকে এর সংখ্যা কম থাকলেও ক্রমেই বাড়তে থাকে এই সংখ্যা। তাদের ধারণা সব মিলিয়ে এখানে রাত্রি যাপন করে অন্তত ৫ হাজারের অধিক চড়ুই পাখি। মানুষের দ্বারা কোনো প্রকার ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ায় দিন দিন এর সংখ্যা বাড়ছে।

আনোয়ার হোসেন নামে দূরপাল্লার বাসের এক যাত্রী জাগো নিউজকে বলেন, যাত্রা বিরতিতে আমি যখনই এই হোটেলে আসি তখনই মুগ্ধ হয়ে পাখিগুলো দেখতে থাকি। এদের কিচিরমিচির ডাকে আমি মুগ্ধ হই। সরকারিভাবে পাখিগুলোর রক্ষাবেক্ষণ করলে লাখো পাখির নিরাপদ আশ্রয়ের স্থান হতে পারে।

স্থানীয় বিসমিল্লাহ কনফেকশনারির মালিক মো. শাহ আলম জাগো নিউজকে বলেন, গত ২২ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। বছর ৫-৬ আগে হঠাৎ একদিন বরই গাছে কিছু চড়ুই পাখির আগমন ঘটে। এরপর থেকে আস্তে আস্তে পাখির সংখ্যা বড়তে থাকে। এখন সন্ধ্যার পর মনে হয় চড়ুই পাখির মেলা বসেছে। ফজরের আজানের পর তারা চলে যায়। সারাদিন এরা কোথায় থাকে, কী করে, কেউ বলতে পারে না।

jagonews24

স্থানীয় সাংবাদিক হাজী দেলোয়ার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, প্রতিদিন কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে পাখি দেখার জন্য বিকেলের পর থেকে ভিড় জমান পাখি প্রেমীরা। মধ্যরাত পর্যন্ত ছবি ও ভিডিও করতে দেখা যায় দর্শনার্থীদের। ছোট্ট একটি গাছে হাজার হাজার পাখি দেখে তারা মুগ্ধ হন। তার দাবি এদের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকারিভাবে যেন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

এ বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শুভাশিস ঘোষ জাগো নিউজকে বলেন, হোটেল নূরজাহানে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি আসার বিষয়ে আমরা অবগত রয়েছি। এছাড়া আমাদের উপজেলা ক্যাম্পাসেও সন্ধ্যার পর হাজার হাজার চড়ুই পাখি নিরাপদ আবাসন হিসেবে বিভিন্ন গাছে অবস্থান নেয়। এরইমধ্যে আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি পাখিদের আশ্রয়স্থল চিহ্নিত করে বেশি করে গাছ লাগানোর। সচেতনতামূলক ভাবে গাছে গাছে প্লেকার্ড ঝুলিয়ে দেওয়া এবং পাখিদের যেন কোনো প্রকার ক্ষতি করা না হয় সে বিষয়ে স্থানীয়দের আবগত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এফএ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।