অর্থাভাবে বুয়েটে পড়া অনিশ্চিত এনামুলের, পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: ০৪:০৫ পিএম, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

দারিদ্র্যকে জয় করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ভর্তি হয়েছেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের বেলগাছি গ্রামের সন্তান মো. এনামুল হক। তবে অর্থাভাবে তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া অনিশ্চিত। এ অবস্থায় তার পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিতান কুমার মন্ডল।

বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে এনামুলকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে আসেন ইউএনও। এ সময় দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বুয়েটে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান তিনি। পাশাপাশি নগদ ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহযোগিতা করেন ইউএনও।

এনামুল হক উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের বেলগাছি গ্রামের মো. ইসরাইল হোসেনের ছেলে। তিনি ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষে বুয়েটের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হয়েছেন।

jagonews24

তার বাবা একজন ইজিবাইক চালক। এক বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে এনামুল মেজ। তিনি ২০১৯ সালে এসএসসি পরীক্ষায় কুষ্টিয়া জিলা স্কুল থেকে (বিজ্ঞান বিভাগ) জিপিএ-৫ অর্জন করেন। ২০২১ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পান তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেধাবী শিক্ষার্থী এনামুলের বাবা একজন ইজিবাইক চালক হওয়ায় অর্থাভাবে তার বুয়েটে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনামুলের অসহায়ত্বের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। বিষয়টি নজর কাড়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিতান কুমার মন্ডলের।

jagonews24

পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন ইউএনও। সেজন্য বুধবার এনামুলকে নিজ কার্যালয়ের ডেকে পাঠান তিনি। পরে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও নগদ ১০ হাজার টাকা সহযোগিতা করেন মানবিক এ ইউএনও।

এ বিষয়ে বুয়েটছাত্র এনামুল হক বলেন, ‘বাবা ইজিবাইক চালক হওয়ায় খুব ছোট থেকে দরিদ্রতার সঙ্গে যুদ্ধ করে পড়াশোনা চালিয়ে আসছি। বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ যতগুলো জায়গায় ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছি সবগুলোতে চান্স পেয়েছি। অনেক গুণীমানুষের সহযোগিতার কারণে আজ আমি এই পর্যন্ত আসতে পেরেছি। সবার দোয়ায় বুয়েটে ভর্তির সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু বুয়েটে পড়া খুব ব্যয়বহুল হওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছি। বুয়েটে সেটেল হতে পারলে টিউশনি করে চলতে পারবো।’

ইউএনও বিতান কুমার মন্ডল বলেন, উপজেলা প্রশাসন সবসময় মেধাবীদের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। কৃতিছাত্র এনামুলকে প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার টাকা সহযোগিতা করা হয়েছে। প্রয়োজনবোধে ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতা করা হবে।

আল-মামুন সাগর/এসআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।