নানা সমস্যায় জর্জরিত দুইবারের দেশসেরা প্রাথমিক বিদ্যালয়

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত: ০৬:৪০ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

পরপর দুইবার দেশসেরা হয়েছিল টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা সদরের বাইমহাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত এই বিদ্যালয়টি এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত। এছাড়া ঢাকা-টাঙ্গাইল পুরাতন মহাসড়ক সংলগ্ন বিদ্যালয়টিতে সীমানা প্রাচীর না থাকায় যে কোনো সময় দুর্ঘটনারও আশঙ্কা রয়েছে।

জানা গেছে, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সহযোগিতায় স্কুলটির শিক্ষার পরিবেশ দিনদিন উন্নত হয়। ভালো ফলাফলের পাশাপাশি এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা, শরীর চর্চা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সুনাম অর্জন করেছে।

প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, বিদ্যালয়ে শিশুদের ঝরে পড়া রোধ, সমাপনী পরীক্ষায় শতভাগ জিপিএ-৫ এবং ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভসহ কঠোর নিয়মশৃঙ্খলা বজায় রাখায় বিদ্যালয়টির সুনাম সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। যার ফলে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে পরপর দুইবার বিদ্যালয়টি দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় হিসেবে নির্বাচিত হয়।

jagonews24

তবে বর্তমানে দেশসেরা এই বিদ্যালয়টি নানা সমস্যায় জর্জরিত। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ছয়শো। শিক্ষক আছেন মাত্র ৯ জন। আনুপাতিক হার হিসেবে বিদ্যালয়টিতে আরও পাঁচজন শিক্ষক প্রয়োজন। এছাড়া শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে সরকারি রুটিন অনুসারে পাঠদান করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া পর্যাপ্ত বেঞ্চ না থাকায় শিক্ষার্থীদের মেঝেতে বসিয়ে পাঠদান করানো হচ্ছে। প্রায় ছয়শো শিক্ষার্থীর জন্য টয়লেট রয়েছে একটি। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে বিদ্যালয়টিতে কোনো টিউবওয়েল নেই। পানির জন্য অন্যত্র ছোটাছুটি করতে হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।

বিদ্যালয়ের কোনো নির্ধারিত খেলার মাঠ নেই। বিদ্যালয়ের সামনে যেটুকু জায়গা রয়েছে তাতে সমাবেশ করাই কঠিন হয়ে পড়ে। আবার বৃষ্টি হলেই ওই জায়গায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে শিক্ষার্থীদের চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে বিভিন্ন জাতীয় দিবসগুলোতে শারীরিক কসরত প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুতি নিতেও হিমশিম খেতে হয়। বিদ্যালয় সীমানা নির্ধারণে জটিলতার কারণে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করাও সম্ভব হচ্ছে না। জায়গার অভাবে খেলাধুলার সামগ্রী স্থাপন করা যাচ্ছে না। এতসব সমস্যা নিয়ে বিদ্যালয়টির সুনাম ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

বিদ্যালয়টির পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী তিশার বাবা আমিনুর রহমান বলেন, দেশ বিখ্যাত এই বিদ্যালয়টিতে নানা সমস্যা রয়েছে। সুনাম ধরে রাখতে এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান করা উচিত।

চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী কুয়াশা দত্তের বাবা রঞ্জন দত্ত বলেন, উপজেলা সদরের এই বিদ্যালয়টির সারাদেশে সুনাম রয়েছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন বিদ্যালয়টির সীমানা প্রাচীর ও শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়াশব্লক নির্মাণ করা খুবই প্রয়োজন।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফরহাদ হোসেন বলেন, আনুপাতিক হারে শিক্ষক কম রয়েছে। বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত বেঞ্চ না থাকায় ফ্লোরে বসিয়ে পাঠদান করানো হচ্ছে। ওয়াশব্লক ও খাবার পানির ব্যবস্থা নেই। সীমানা প্রাচীর না থাকায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে চিন্তিত থাকতে হয়।

jagonews24

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লাইলী আক্তার বলেন, নানা সমস্যার মধ্যে বৃষ্টির মৌসুমে আরেক সমস্যা যোগ হয়। একটু বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয়ের ছাদ চুয়ে পানি পড়ে এবং সামনে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খেতে হয়। শিক্ষা অফিস থেকে এসব সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।

এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিদ্যালয়টির সামনে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমি থাকায় সীমানা প্রাচীর করা যাচ্ছে না। এছাড়া ওয়াশব্লক নির্মাণে জমি না থাকায় তাও করা যাচ্ছে না। বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা অধিদপ্তরে জানানো আছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু বলেন, বিদ্যালয়টির সমস্যাগুলো সম্পর্কে কেউ আমাকে জানায়নি। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সমস্যাগুলো জানানো হলে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টি সরেজমিন দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এমআরআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।