মির্জাপুরে পুলিশ ফাঁড়িতে একজনের ‘মৃত্যু’

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত: ১১:০১ এএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ফাঁড়িতে মো. লেবু মিয়া (৫০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের দাবি তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে স্বজনদের দাবি পুলিশের নির্যাতনে মারা গেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ফাঁড়ির হাজতখানার টয়লেট থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। লেবু বাঁশতৈল গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ জানায়, পাঁচ বছর আগে সখিনা বেগমের (৪৩) সঙ্গে বাঁশতৈল গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে মফিজুর রহমানের (৪৭) বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে তিনি একই গ্রামে আলাদা বাড়ি তৈরি করে দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে বসবাস করতেন সখিনা। মেয়েদের বিয়ে হওয়ায় প্রবাসী ছেলের স্ত্রীকে নিয়ে ওই বড়িতে থাকতেন তিনি।

রোববার রাতে সখিনা বাড়িতে একা ছিলেন। সোমবার অনেক বেলা হলেও সখিনাকে না দেখতে পেয়ে পাশের বাড়ির লোকজন খোঁজ করতে ওই বাড়িতে যান। দুপুরে ঘরের ভেতর তার মরদেহ দেখতে পেয়ে বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়িতে জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।

সখিনার গলায় কালো দাগ পাওয়া যায় বলে জানায় পুলিশ। সখিনার মা আকিরন বেগমের দাবি তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এর বিচার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে এ ঘটনায় রাতে বাঁশতৈল ফাঁড়ি পুলিশ সখিনার সাবেক স্বামী মফিজুর এবং একই গ্রামের বাসিন্দা লেবু মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটকের পর হাজতখানায় রাখে। ভোরে এদের মধ্যে লেবু মিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

লেবু মিয়ার ভাই ভাররা ইউনিয়নের সচিব মো. বজলুর রশিদের অভিযোগ, পুলিশের নির্যাতনে তিনি মারা গেছেন। তিনি এর বিচার দাবি জানিয়েছেন।

তবে বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সাখাওয়াত হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ওই নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। তার গলায় কালো দাগ ছিল। তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, এ ঘটনায় ওই নারীর সাবেক স্বামী মফিজ ও লেবু মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। রাতে তাদের পৃথক হাজতখানায় রাখা হয়েছিল। ভোরে লেবু মিয়া টয়লেটের ভেন্টিলেটরে থাকা রডের সঙ্গে সুতা আটকে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। সুরতহাল শেষে মরদেহ মির্জাপুর থানায় পাঠানো হয়েছে।

মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আমিনুল ইসলাম বুলবুল জাগো নিউজকে বলেন, লেবু মিয়াকে টয়লেটের ভেন্টিলেটরে থাকা রডের সঙ্গে শক্ত সুতা দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় পেয়েছি। যা আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। তার উপস্থিতিতে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জাগো নিউজকে বলেন, ওই ব্যক্তি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে বলে শুনেছি। আমি বাইরে আছি। থানায় গিয়ে বিস্তারিত জানতে পারবো।

এস এরশাদ/এসজে/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।