বৃদ্ধ শিক্ষক আব্দুর রশিদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন ইউএনও

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ১০:০২ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

বগুড়ার নন্দীগ্রামের অসহায় বৃদ্ধ শিক্ষক আব্দুর রশিদের (৮৮) চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলার কুন্দারহাট বাসস্ট্যান্ডের যাত্রী ছাউনি থেকে তাকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসকরা বলছেন, তার কোমরের হাড় ভাঙা, মানসিক সমস্যা, পানিশূন্যতা ও চর্মরোগ রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন।

এদিকে সব হারিয়ে নিঃস্ব আব্দুর রশিদ স্ত্রী-কন্যার কাছ থেকে বিতাড়িত হয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন বাসস্ট্যান্ডের যাত্রী ছাউনিতে। সেখানে অবস্থানকালে নন্দ্রীগ্রামের ইউএনও শিফা নুসরাতের নজরে আসেন। এরপর তিনি সে যাত্রী ছাউনিতে উপস্থিত হয়ে বৃদ্ধ রশিদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
ইউএনও বলেন, ইতোমধ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। ভালো কোনো বৃদ্ধ নিবাসে যেন আব্দুর রশিদকে রাখা যায় সবার কাছে সে সহযোগিতা চেয়েছি। এছাড়া তার চিকিৎসা, আবাসনসহ মানবিক সব বিষয়ে পরবর্তী সময়ে উপজেলা প্রশাসন সহযোগিতা করবে।

নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ তিনটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। বয়সের ভারে স্মৃতি শক্তি লোপ পেলেও তার জীবনের অনেক কথাই এখন স্মরণ করতে পারেন। তার তথ্য অনুসারে আব্দুর রশিদ ১৯৬২ সালে মেট্রিক পাশ করার পর বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর শিক্ষায় স্নাতক (বিএড) কোর্স সম্পন্ন করে যোগ দেন নাটোরের সিংড়া উপজেলা সাতপুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে। সেখান থেকে চলে আসেন নন্দীগ্রাম উপজেলার বীজরুল উচ্চ বিদ্যালয়ে। সর্বশেষ তিনি চাকরি করেন কুন্দারহাট ইনছান আলী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে।

আব্দুর রশিদ এরশাদ সরকারের সময় ছিলেন উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি। জমিজমাও ছিল ১৪ বিঘা। কিন্তু সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে স্ত্রী-কন্যার কাছ থেকে বিতাড়িত হন তিনি। এরপর আশ্রয় নেন উপজেলার কুন্দারহাট বাসস্ট্যান্ডের যাত্রী ছাউনিতে। বিগত এক বছরের বেশি সময় ধরে সেখানেই অবস্থান করছিলেন তিনি।

নন্দীগ্রাম উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি নাজির আহম্মেদ বলেন, ১৯৮২ সালে এরশাদ সরকারের জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে নন্দীগ্রাম উপজেলার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ওই সময় বগুড়া জেলা পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন রশিদ মাস্টার। উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করেছেন দুবার।

আব্দুর রশিদ মাস্টারের ছোট ভাই জিল্লুর রহমান জলিল বলেন, রাজনীতি ও নির্বাচন করতে গিয়ে তার ভাই চার বিঘা আবাদি জমি বিক্রি করেন। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে ছিল তার সুখের সংসার। মেয়ে মরিয়মকে বিয়ে দিয়েছেন পাশের সিংড়া উপজেলায়। একমাত্র ছেলে মোন্নাফ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এরপর তিনি বগুড়া শহরে দ্বিতীয় বিয়ে করে শহরেই বসবাস করতেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে একটি মেয়ে সন্তান জন্ম নেওয়ায় স্ত্রী-শাশুড়ি চাপ দিয়ে বাড়ি, পুকুর, বাগানসহ দেড় বিঘা জমি লিখে নেন। এছাড়া মহাসড়কের পাশে মূল্যবান দেড় বিঘা জমির ওপর স্থাপিত একটি চাতাল আব্দুর রশিদ লিখে দেন বড় বোন আমিনাকে। বোনের সঙ্গে মৌখিক শর্ত ছিল স্ত্রী-সন্তান না দেখলে শেষ বয়সে বোনের ছেলে-মেয়ে তার ভরণে পোষণের দায়িত্ব নিবে। কিন্তু বড় বোন মারা যাওয়ার পর তার ছেলে মেয়েরা কোন খোঁজ খবর রাখেন না রশিদের। সব হারিয়ে আব্দুর রশিদ প্রথমে কুন্দারহাট বাজারে একটি বটগাছের নিচে আশ্রয় নেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তোফাজ্জল হোসেন জানান, আব্দুর রশিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। তার ফুসফুসে পানি জমেছে। অন্যান্য শারীরিক সমস্যার জন্য বেশকিছু পরীক্ষা করা দরকার। এজন্য বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে হবে।

আরএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।