বগুড়ায় ডেকে নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৬:৫৫ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২
মর্তুজা কাওসার অভি

আধিপত্য বিস্তার ও দলীয় কোন্দলের জেরে বগুড়ার শেরপুরে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত মর্তুজা কাওসার অভি (৩৮) শেরপুর পৌর আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন একটি বাগানের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত অভি শেরপুর পৌর শহরের বারোদুয়ারী খন্দকারপাড়া এলাকার মৃত হোসাইন কাওসার ফুয়াদের ছেলে।

শেরপুর টাউন পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক ছাম্মাক হোসেন জানান, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা অভি প্রাইভেটকার মেরামতের জন্য উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন ওই মোটর গ্যারেজে যান। এসময় ওঁত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর দেশীয় ধারালো নিয়ে হামলা চালায়। প্রাণ বাঁচাতে অভি গ্যারেজ সংলগ্ন বাগানের ভেতর দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। দুর্বৃত্তরা তাকে ধাওয়া করে বাগানের মধ্যে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক অভিকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত অভির মা বুলবুলি কাওসার বলেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে আমার ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের বিচার চাই।

অভির স্ত্রী খাদিজা আক্তার লিমা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনের কথা বলে আমার স্বামীকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। যারাই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।

শেরপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সারোয়ার রহমান মিন্টু বলেন, মর্তুজা কাওসার অভি পৌর আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছিলেন। তিনি দলীয় সব কর্মসূচিতেই অংশ নিতেন। দলের সক্রিয় একজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারাই জড়িত থাক না কেন তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

এ বিষয়ে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান খন্দকার বলেন, ঘটনার পরপরই হত্যাকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন করেছেন বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী। নিহত অভির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিতকরণসহ তাদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। নিহতের চাচা শফিকুল ইসলাম শিরু বলেন, মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলে দাফন করা হবে। এরপর থানায় মামলা করা হবে।

এমআরআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।