মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৬:৩৩ পিএম, ০১ অক্টোবর ২০২২
ফাইল ছবি

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে শিমু খাতুন (৩৫) নামে অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে নির্যাতনের পর বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। নিহত শিমু শেরপুর উপজেলার ফাঁসিতলা গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলামের মেয়ে এবং ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি-মবুয়াখালী গ্রামের আব্দুল আজিজের স্ত্রী।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই বিদ্যুৎ হাসান বাদী হয়ে শনিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে ধুনট থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। ওই অভিযোগে নিহতের স্বামী আব্দুল আজিজসহ ছয়জনের নাম রয়েছে।

এর আগে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিমুর মৃত্যু হয়। এসময় হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালিয়ে যান আব্দুল আজিজ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে শিমু খাতুনকে বিয়ে করেন আব্দুল আজিজ। তিনি অটোরিকশা চালিয়ে আর শিমু স্থানীয় বাজারে একটি মুদি দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। শিমু ফের ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

এদিকে, আব্দুল আজিজ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের মাদক দ্রব্য সেবন করেন। কিন্তু স্ত্রী তাকে মাদক সেবনে বাধা সৃষ্টি দেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ হয়। তারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকালে স্ত্রীর কাছে মাদক সেবনের টাকা চান আব্দুল আজিজ। কিন্তু স্ত্রী টাকা দিতে রাজি হননি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শিমুকে নির্যাতনের একপর্যায়ে মুখে বিষ ঢেলে দেন তিনি। পরে প্রতিবেশীরা শিমুকে উদ্ধার করে প্রথমে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড হয়েছে। আর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ধুনট থানায় হত্যার অভিযোগ করেছে। এ বিষয়টি তদন্তের জন্য একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে মামলা রেকর্ড করা হবে।

এমআরআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।