‘বাবা আমি মরে গেলে ভালো হতো’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বেনাপোল (যশোর)
প্রকাশিত: ০৭:৪১ পিএম, ০৫ অক্টোবর ২০২২
বাবা-মার সঙ্গে নীলা খাতুন

যশোরের শার্শা উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রামের আসাদুজ্জামান ও রত্না খাতুন দম্পতির একমাত্র মেয়ে নীলা খাতুন। আট বছরের শিশুটি থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত। নিজের অসুস্থতাজনিত যন্ত্রণা সইতে না পেরে ছোট্ট নীলা তার বাবাকে বলে, ‘আমি মরে গেলে ভালো হতো। জ্বালা-যন্ত্রণা হতো না। ঘুমিয়ে থাকতাম নিশ্চিন্তে।’

মেয়ের কণ্ঠে এমন কথা শোনার পর অসহায় বাবা-মা চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। চোখের সামনে দিনদিন শিশুটির অবস্থা খারাপের দিকে গেলেও নীলার চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্য নেই অসহায় এই বাবা-মার। এমন পরিস্থিতিতে সমাজের বিত্তবানসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মানবিক সাহায্যের আবেদন করেছেন তারা।

নীলার বাবা একটি মিষ্টির দোকানে কারিগরের কাজ করেন আর মা গৃহিণী। আসাদুজ্জামান যা আয় করেন তা মেয়ের চিকিৎসার পেছনে ব্যয় করতে হয়। সংসারে কিছুই দিতে পারেন না। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা। অর্থের অভাবে আদরের সন্তানকে চোখের সামনেই নীরবে শেষ হতে দেখছেন শিশুটির বাবা-মা।

jagonews24

এদিকে, নিষ্পাপ মায়াবী চেহারায় ফুটে উঠেছে নীলার বাঁচার আকুতি। নীলা কেমন আছো, জিজ্ঞাসা করলে ছোট গলায় বললো, ভালো নেই, আমার গায়ে জ্বর, সবসময় জ্বালা-যন্ত্রণা করে। খেতে পারি না। উঠতে পারি না। খেলতে পারি না। স্কুলে যেতে পারি না। ডাক্তার বলেছে, অপারেশন করতে হবে। আমাদের তো টাকা নেই। আপনারা দয়া করেন। অন্য ছেলেমেয়েদের মতো আমিও বাঁচতে চাই, বলেই কেঁদে ফেলে শিশুটি।

নীলার বাবা আসাদুজ্জামান জানান, জন্মের মাত্র আড়াই মাস বয়স থেকে নীলা থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত। সেই থেকে দীর্ঘ আট বছর ধরে তার শরীরে রক্ত দিয়ে আসছিল পরিবার। বর্তমানে তা জটিল আকার ধারণ করেছে। নীলার পেট ফুলে গেছে। শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তাকে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। একথা শুনে মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। চিকিৎসায় ব্যয় হবে তিন লাখ টাকা। কোথা থেকে পাবেন এ টাকা। গত আট বছরে সন্তানের চিকিৎসা করাতেই তার জমানো সব টাকা শেষ।

এ বিষয়ে স্থানীয় কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন বলেন, আমরা যতটুকু পেরেছি সহযোগিতা করেছি। শিশুটাকে বাঁচাতে অনেক আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন। সমাজের বিত্তশালীদের নীলার চিকিৎসায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

মো. জামাল হোসেন/এমআরআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।