যশোর জেলা পরিষদ নির্বাচন

কোটিপতির সঙ্গে লাখোপতির লড়াই

মিলন রহমান মিলন রহমান , জেলা প্রতিনিধি, যশোর
প্রকাশিত: ০৬:১৮ পিএম, ১৬ অক্টোবর ২০২২
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাইফুজ্জামান পিকু (বামে) ও বিকল্পধারার প্রার্থী মারুফ হোসেন কাজল

যশোর জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অসম লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছেন দুই প্রার্থী। একদিকে রয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ‘কোটিপতি’ সাইফুজ্জামান পিকুল, অন্যদিকে বিকল্পধারা প্রার্থী ‘লাখোপতি’ মারুফ হোসেন কাজল।

ভোটার, সমর্থক, সংগঠন ও অর্থবিত্ত সবদিক থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মারুফ হোসেন কাজলের চেয়ে এগিয়ে সাইফুজ্জামান পিকুল। এ পরিস্থিতিতে সোমবার (১৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হচ্ছে যশোর জেলা পরিষদ নির্বাচন।

যশোর জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, যশোর জেলা পরিষদ নির্বাচনে আট উপজেলায় দুই চেয়ারম্যানসহ ৫১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সাইফুজ্জামান পিকুল ও বিকল্পধারার মারুফ হোসেন কাজল। আটটি সাধারণ সদস্যের বিপরীতে ৩৭ জন ও তিনটি সংরক্ষিত সদস্যের বিপরীতে ১৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আটটি উপজেলার মধ্যে সাতটির ভোটগ্রহণ উপজেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত হবে। বাকি সদর উপজেলার ভোটগ্রহণ হবে যশোর শহরের কালেক্টরেট সরকারি বিদ্যালয়ে।

আটটি কেন্দ্রে ১৬টি বুথে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে মোট এক হাজার ৩১৯ জন ভোটার (জনপ্রতিনিধি) তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ও নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আনিচুর রহমান জানান, ভোটগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সবধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। রোববার (১৬ অক্টোবর) প্রতিটি কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম চলে যাবে।

নির্বাচন অফিস সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যশোরে জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাইফুজ্জামান পিকুল ও বিকল্পধারার মারুফ হোসেন কাজল। আওয়ামী লীগ মনোনীত পিকুল গত পাঁচ বছরে চেয়ারম্যান থাকাকালীন তুলনামূলকভাবে নগদ অর্থসহ সম্পদ পরিমাণের প্রায় চারগুণ হয়েছে। এর বিপরীতে মারুফ হোসেন কাজলের আয়-ব্যয় লাখের কোটায়।

নির্বাচনী হলফনামার সম্পদের বিবরণী বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাইফুজ্জামান পিকুলের বিপুল সহায় সম্পদ রয়েছে। নিজ নামের পাশাপাশি স্ত্রী ও সন্তানরাও বিপুল সম্পদের মালিক। প্রার্থীর বাৎসরিক আয় ১৮ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। গত জেলা পরিষদ নির্বাচনে যা ছিল চার লাখ টাকা। ২০১৬ সালের নির্বাচনে তার স্ত্রীর কোনো বার্ষিক আয় না দিলেও এবার তার স্ত্রীর বার্ষিক আয় এক লাখ দুই হাজার ৫০০ টাকা দেখানো হয়েছে।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ৬৬ লাখ ৮১ হাজার ৭৭ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা এক লাখ ৯৯ হাজার ৯৭৫ টাকা, বন্ডঋণপত্র ইত্যাদি ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা, সোনা ১০ তোলা, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ৫০ হাজার, আসবাবপত্র দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা, যা বিগত নির্বাচনের হলফনামার তুলনায় অনুযায়ী দ্বিগুণ।

বিগত জেলা পরিষদ নির্বাচনে স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ না থাকলেও এবার রয়েছে নগদ দুই লাখ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৭৩ হাজার ৫০৭ টাকা, বন্ডঋণপত্র ইত্যাদি ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা, স্বর্ণ ১০ তোলা, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ২০ হাজার ও আসবাবপত্র ১৫ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজ নামে এক হাজার ৮০৭ শতক জলকর জমি ও অকৃষি দশমিকশূন্য ৮ শতক।

একইভাবে স্থাবর সম্পদের বিবরণীতে গত নির্বাচনে না থাকলেও এবার প্রার্থীর স্ত্রীর ৩ একর জলকর (জমি), অকৃষি জমি ১০ দশমিক ৭৫ শতক ও তিনতলা বসতবাড়ি দেখানো হয়েছে। আর নির্ভরশীলদের নামে একটি দেড়শ সিসি মোটরসাইকেল ও চার দশমিকশূন্য ৮ একর কৃষি জমি রয়েছে। তবে এবার কোনো দায়-দেনা না থাকলেও গত নির্বাচনে মাছ চাষবাবদ ২৪ লাখ টাকা দেনা উল্লেখ করেছিলেন আওয়ামী লীগের এই প্রার্থী।

অন্যদিকে মারুফ হোসেন কাজলের হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, কৃষি ও ব্যবসায় খাতে বার্ষিক ছয় লাখ টাকা আয় করেন তিনি। তার সম্পদের তালিকায় রয়েছে একটি মোটরসাইকেল (অ্যাপাচি ১৬০ সিসি), ইলেকট্রনিক ও আসবাবপত্র। তবে মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। তার স্ত্রীর নামে তিন ভরি সোনা আছে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সাইফুজ্জামান পিকুল জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার সম্পদ বাড়েনি। টাকার মান কমে যাওয়ায় এবং আমার মূল পেশা মাছচাষে উৎপাদিত পণ্যের (মাছের) দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় টাকার পরিমাণ বেড়েছে। আর ব্যবসায় কিছু উন্নতি হয়েছে।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করেছি। যোগ্য প্রার্থী বেছে নেওয়ার ব্যাপারে সবাই ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। তাই বিপুল ভোটে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

বিকল্পধারার মারুফ হোসেন কাজল জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্ত। আমার বেশি সম্পদ-সম্পত্তি নেই। বিপরীতে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অঢেল সম্পদ। তিনি চেয়ারম্যান থাকাকালে কী কী করেছেন সেটা জনপ্রতিনিধিরা বা যশোরবাসী জানে। আমি এবার বিজয়ী হলে জনপ্রতিনিধিদের মূল্যায়ন করবো।’

তিনি আরও বলেন, জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন, উপজেলা ও পৌরসভায় গিয়ে ভোট চেয়েছি। আমাকে ভোট দিয়ে ভোটাররা যোগ্যপ্রার্থী বেছে নেবে বলে আশাবাদী।

এসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।