জেলা পরিষদ নির্বাচন

টাকার মালা গলায় নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের বাড়ি ঘুরছেন বিজয়ী সদস্য

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ১২:৫৭ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০২২
টাকার মালা গলায় নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের বাড়ি ঘুরছেন বিজয়ী সদস্য

ফরিদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে তিন নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদে ভোটযুদ্ধে জয়ী হয়েছেন ফারুক খান। তিনিসহ এতে বেজায় খুশি কর্মী-সমর্থকরাও। তাদের আবেগ-আনন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বিজয়ী সদস্যের গলায়। টাকা ও ফুল দিয়ে মালা তৈরি করে সদ্য নির্বাচিত সদস্যের গলা সজ্জিত করে চলছে সমর্থকদের বিজয়োল্লাস।

টাকার মালা গলায় দিয়ে জনপ্রতিনিধিদের (ভোটারদের) বাড়ি বাড়ি গিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করছেন বিজয়ী সদস্য ফারুক খান। শুক্রবার (২১ অক্টোবর) সকালেও আলফাডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের (ভোটার) বাড়ি গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায়।

jagonews24

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৭ অক্টোবর ফরিদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে আলফাডাঙ্গা ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য পদে মো. ফারুক খান অটোরিকশা মার্কা নিয়ে ৩৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ শহীদুল ইসলাম হাতি প্রতীকে ২৮ ভোট পান। এ ওয়ার্ডে ৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এ কেন্দ্রে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীরা মো. তরিকুল ইসলাম তালা প্রতীকে ২৪, মো. সেলিম রেজা টিউবওয়েল প্রতীকে ৪ ও নওফেল আহমেদ ঘুড়ি প্রতীকে ৩ ভোট পান।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বানা ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও জেলা পরিষদের তিন নম্বর ওয়ার্ডের নব নির্বাচিত সদস্য ফারুক খান গলায় ১০০০, ৫০০ ও ১০০ টাকার নোট এবং ফুলের মালা নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সদস্য ও চেয়ারম্যানদের বাড়ি বাড়ি ঘুরতে দেখা যায়। ভোটে জিতে টাকার মালা উপহার নেওয়া ও দেওয়া দুটিই অপসংস্কৃতি। টাকার মালার কারণে সমাজে নেতিবাচক বার্তা বহন করে। এসব থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

jagonews24

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নব নির্বাচিত জেলা পরিষদের সদস্য ফারুক খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘মানুষ আমাকে অনেক ভালোবাসেন। আমার বাবা আ. কুদ্দুস খান আলফাডাঙ্গা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। আলফাডাঙ্গার মানুষ যে আমাদের ভালোবাসেন তারই বহিঃপ্রকাশ। তারা আমাকে ভালোবেসে ফুল ও টাকার মালা পরিয়েছেন। যেভাবে আমাকে ভোটে বিজয়ী করেছেন, আমি যেন তাদের সেই মান রাখতে পারি সর্বদা সেই চেষ্টা করবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের জয়ের পর থেকে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ঘোরা শুরু করেছি, এখনো শেষ হয়নি।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল হক জাগো নিউজকে বলেন, আসলে এটা ঠিক নয়। এটা আচরণবিধি লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে। এরপরও বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তা ভালো বলতে পারবেন।

ফরিদপুরের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমানের মোবাইল নম্বরে বারবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এন কে বি নয়ন/এসজে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।