কৃষি আবহাওয়া বোর্ডে পাখির বাসা, তথ্য পাচ্ছেন না কৃষকরা

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি হিলি (দিনাজপুর)
প্রকাশিত: ০৯:০০ পিএম, ৩১ অক্টোবর ২০২২

কৃষকদের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিতে দিনাজপুরের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে স্থাপিত কৃষি আবহাওয়া তথ্য বোর্ড তেমন কোনো কাজে আসছে না। জেলার সব ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপিত এসব স্বয়ংক্রিয় রেইনগজ মিটার এবং তথ্য বোর্ড অনেকটা অকেজো হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় কিছু তথ্য বোর্ডে পাখির বাসা তৈরি করতেও দেখা গেছে।

এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে স্থাপিত এসব তথ্য বোর্ডের বিষয়ে স্থানীয় অধিকাংশ কৃষকই কিছুই জানেন না। বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সময় তারা কৃষদের মোবাইলে খুদেবার্তা পাঠিয়ে থাকেন।

কৃষকদের জন্য স্থাপিত স্বয়ংক্রিয় রেইনগজ মিটার ও তথ্য বোর্ডের মাধ্যমে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, ঝড়ের পূর্বাভাস, আলোকঘণ্টাসহ ১০টি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং প্রকাশের ব্যবস্থা রয়েছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ‘কৃষি আবহাওয়া তথ্যপদ্ধতি উন্নতিকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পে সারাদেশের মতো দিনাজপুরের বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাট উপজেলায় ২৮টি অটোমেটিক রেইনগজ মিটার এবং কৃষি আবহাওয়া ডিসপ্লে বোর্ড স্থাপন করা হয়। এসব বিষয়ে দেখভালের জন্য একজন করে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের আবহাওয়া বিষয়ক তথ্য পাঠানোর জন্য ইন্টারনেট সংযোগসহ একটি করে ট্যাব সরবরাহ করা হয়।

সরেজমিনে বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি পরিষদ ভবনের ছাদে বসানো হয়েছে রেইনগজ মিটার ও সৌরবিদ্যুতের প্যানেল। আর আবহাওয়ার তথ্য হালনাগাদ করার জন্য কোনো পরিষদ ভবনের নিচ তলার দেওয়ালে আবার কোথাও ওপর তলার দেওয়ালে স্থাপন করা হয়েছে তথ্য বোর্ড। কোথাও বোর্ড জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। অনেক বোর্ডের ভেতরে পাখি বাসা তৈরির জন্য খড়কুটা রেখেছে। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, এসব কৃষি বোর্ডে ছয় দিনের আবহাওয়ার তথ্য হালনাগাদ থাকার কথা থাকলেও শেষ কবে তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছে সে বিষয়ে এলাকাবাসী কিছুই জানেন না।

শনিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের সামনে কথা হয় কৃষক জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি সারাদিন পরিষদের সামনেই থাকি কিন্তু পরিষদ ভবনের দুই তলায় কৃষকের তথ্য ভাণ্ডার কৃষি বোর্ডের বিষয়ে কিছুই জানি না। টেলিভিশন বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা আবহাওয়ার তথ্য পেয়ে থাকি।

শৈলান গ্রামের কৃষক এখলাছুর বলেন, সরকার আমাদের সুবিধার জন্য অনেক কিছুই করেছে কিন্তু আমরা এর সুবিধা ভোগ করতে পারছি না। আবহাওয়ার তথ্য পেলে আমাদের কৃষিকাজে বেশ উপকার হতো। আবহাওয়া দেখে কাজ করলে আমাদের শস্যের তেমন ক্ষতি হতো না।

রমজান আলী নামে এক ব্যক্তি বলেন, বোর্ড টাঙানো আছে ঠিকই। কিন্তু তথ্য হালনাগাদ হয় না। এই বোর্ডের কাজ কী তাও জানা নেই।

কাটলা ইউনিয়নের কৃষি আবহাওয়া তথ্য বোর্ডের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহাবুব রহমান বলেন, আমি প্রায় গিয়ে পরিষদের বোর্ডে তথ্য হালনাগাদ করে আসি। তবে তথ্য বোর্ড সম্পর্কে অনেক কৃষক জানে না। আমাদের সরবরাহ করা অনেক ট্যাব নষ্ট হয়ে গেছে। আমার ব্যবহৃত ট্যাবটি এখনো ভালো আছে। বড় অফিস থেকে আমাদের আবহাওয়া বিষয়ে জানালে আমরা সেটা বোর্ডে ঠিক করে দিই। তবে বোর্ডগুলো এনালগ, ডিজিটাল হলে ভালো হতো।

কৃষি তথ্য বোর্ডে পাখির বাসার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে সব সময় খোলা যায় না। যার কারণে এমন হতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নিক্সন চন্দ্র বলেন, কৃষি বোর্ড দেখার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে একজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আছেন। আমাদের এই এলাকা বন্যাপ্রবণ নয়, তার পরেও যদি আবহাওয়ার বিষয়ে কোনো তথ্য আসে সমিতির মাধ্যমে কৃষকের মোবাইলে ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হয়। যদি কোনো তথ্যবোর্ডে পাখি বাসা তৈরি করে বিষয়গুলো খোঁজ নিয়ে দ্রুত সচল রাখার ব্যবস্থা করা হবে।

এমআরআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।