চার বছর পর মুন্সিগঞ্জ-গজারিয়া ফেরি চলাচল শুরু

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মুন্সিগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৫:৪০ পিএম, ০৯ নভেম্বর ২০২২

অডিও শুনুন

মেঘনা নদীর মুন্সিগঞ্জ-গজারিয়া নৌরুটে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে ফের চালু হলো হয়েছে ফেরি সার্ভিস। বুধবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে গজারিয়া কাজিপুরা ফেরিঘাট এলাকায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফেরি সার্ভিসের উদ্ধোধন করেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস।

পরে কাজিপুরা ফেরিঘাট থেকে চারটি গাড়িসহ শতাধিক যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যায় প্রথম ফেরি। এটি ২০ মিনিটে মুন্সিগঞ্জ অংশের চরকিশোরগঞ্জ ঘাটে পৌঁছায়।

এ ফেরি সার্ভিসের মাধ্যমে গজারিয়া থেকে মুন্সিগঞ্জ জেলা সদরে আসা-যাওয়ায় নদীপথে দুর্ভোগ লাগব আর পদ্মা সেতু থেকে মুন্সিগঞ্জ হয়ে সহজেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচল করতে পারবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে তিনটি ফেরি দিয়ে পারাপার করা হলেও ভবিষ্যতে সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির কথা জানান বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (প্রশাসন) মো. রাশেদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, বর্তমানে এ রুটে তিনটি ফেরি থাকছে। গাড়ির সংখ্যা বেড়ে গেলে ভবিষ্যতে এ নৌরুটে ফেরির সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। অন্য রুটে যে হারে ভাড়া নির্ধারিত সে হারেই এখানে ভাড়া নেওয়া হবে।

বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ও মাঝিকান্দি নৌরুটের ফেরিগুলো স্থানান্তরের মাধ্যমে অন্য রুটে চালু করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মুন্সিগঞ্জ-গজারিয়া রুটে আবার ফেরি সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এ ফেরি সার্ভিসটি নিয়ে আমরা আশাবাদী, দক্ষিণবঙ্গ থেকে পদ্মা সেতু হয়ে আসা যানবাহন ঢাকা শহরে না ঢুকে তারা মুন্সিগঞ্জ হয়ে ফেরি পাড়ি দিয়ে ভবেরচর হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উঠতে পারবে। এসব যানবাহনের ক্ষেত্রে ৫০-৬০ কিলোমিটার দূরত্ব কমে যাবে। এতে আর্থিকভাবেও লাভবান হবে তারা।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা শহরের যে যানজট বিশেষ করে পোস্তগোলা সেতু পার হয়ে হানিফ ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে চিটাগং মহাসড়কে যেতে হয়। মুন্সিগঞ্জ হয়ে এই ফেরি সার্ভিস ব্যবহার করে গেলে তারা এসব যানজট এড়িয়ে যেতে পারবে।

মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস বলেন, ফেরি চলাচলের মাধ্যমে যাত্রী দুর্ভোগ লাগব হবে। এ অঞ্চলের সামগ্রিক কার্যক্রমের গতি আসবে। আর এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে গজারিয়ার সঙ্গে মুন্সিগঞ্জের সংযোগ স্থাপনে মেঘনা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের নির্দেশনা দিয়েছেন। ওই সেতু নির্মাণের প্রাক-সমীক্ষার কাজ চলছে। আশা করি, ফেরি চলাচলের পর অচিরেই সেই সেতু নির্মাণের কাজও শুরু হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর মধ্যে এই রুটে ফেরির ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। মাঝারি ট্রাক টাক ৭০০ টাকা, মিনিট্রাক ৪৯০ টাকা, প্রাইভেটকার ৩৫০ টাকা, মাইক্রোবাস ৪২০ টাকা, জিপগাড়ি ৪০০ টাকা, বড় বাস ১২০০ টাকা, মিনিবাস ৮১০ টাকা, মোটরসাইকেল ৬০ টাকা ও যাত্রীপ্রতি ভাড়া ১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে ২০১৮ সালের জুনে এ নৌরুটে ফেরি উদ্ধোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে দুইপাড়ের যাতায়াতের সড়কের বেহাল দশা, যানবাহন সংকটসহ নানা প্রতিকূলতার মুখে কয়েক মাস না যেতেই বন্ধ হয়ে যায় সার্ভিসটি। এরপর সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল ঘাটের পন্টুন।

এদিকে, ফেরির রুটে দুইপাড়ের ভবেরচর-গজারিয়া-মুন্সিগঞ্জের ১২ কিলোমিটার সড়ক ২০১৯ সালে সংস্কার শুরু হয়, যা এরইমধ্যে শেষ হয়েছে। এতে এ রুটে যানবাহন চলাচলের পথ এখন সুগম হয়েছে।

আরাফাত রায়হান সাকিব/এমআরআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।