ঈশ্বরদীতে কমেছে ডিমের দাম, হতাশ খামারিরা

শেখ মহসীন
শেখ মহসীন শেখ মহসীন ঈশ্বরদী (পাবনা)
প্রকাশিত: ১০:৫৯ এএম, ১১ নভেম্বর ২০২২
মুরগির ডিমের দাম কমায় লোকসানের মুখে খামারি

পাবনার ঈশ্বরদীতে হঠাৎ পড়ে গেছে ডিমের দাম। ডিম বিক্রি করে মুরগির খাদ্য ও ওষুধের খরচ উঠছে না খামারিদের। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি তাদের।

খামারিরা জানান, মুরগির খাবার, বাচ্চা, ওষুধ, শ্রমিকের মজুরি, খামার তৈরির নানা উপকরণের দাম বাড়ায় খামার টিকিয়ে রাখা কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরমধ্যই গত কয়েকদিন ধরে আশঙ্কাজনক হারে ডিমের দাম কমে গেছে। ১০ দিনের ব্যবধানে প্রতি হালি ডিমে ৫ টাকা ৬০ পয়সা কমে বিক্রি হচ্ছে।

তাদের দাবি, প্রতি ডিমে তাদের উৎপাদন খরচ হচ্ছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা। সেখানে তারা বিক্রি করছেন ৯ টাকা ১০ পয়সা। এতে প্রতিটি ডিমে তাদের খরচের চেয়ে ১ টাকা ৪০ পয়সা ঘাটতি পড়ছে।

ঈশ্বরদীর বিভিন্ন ডিমের আড়ত ঘুরে জানা যায়, ১ নভেম্বর প্রতি হালি ডিম খামারিরা ৪২ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে প্রতি হালি ডিম আড়তে বিক্রি হচ্ছে ৩৬ টাকা ৮০ পয়সা।

ঈশ্বরদী বাজারের নিউ ইসলাম ডিম আড়তের স্বত্বাধিকারী খায়রুজ্জামান খান বলেন, ‘খামারিদের কাছ থেকে ৩৬ টাকা ৪০ পয়সা হালি দরে ডিম কিনে বিক্রি করছি ৩৬ টাকা ৮০ পয়সা।’

jagonews24

হঠাৎ ডিমের দাম কমে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ডিমের দাম নির্ধারণ হয় রাজধানীতে। যারা খুচরা বা পাইকারি ডিমের কারবারি তারা মোবাইল ফোন বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ডিমের বাজার দর জেনে ডিমে কিনতে আসে।’

খুচরা ডিম বিক্রেতা পৌর শহরের মোড়ে হারুন অর রশিদ বলেন, ‘প্রতি হালি ডিম ৪০ টাকা হালি বিক্রি করছি।’

দাশুড়িয়া ইউনিয়নের খারজানি গ্রামের খামারি নজরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘১০ দিনের ব্যবধানে খামারে ডিমের দাম কমেছে হালি প্রতি প্রায় ৫ টাকা ৬০ পয়সা। ৪২ টাকা হালির ডিম এখন ৩৬ টাকা ৪০। প্রতি পিস ডিম উৎপাদন খরচ যেখানে প্রায় ১০ টাকা ৫০ পয়সা সেখানে বিক্রি করতে হচ্ছে ৯ টাকা ১০ পয়সা। প্রতি ডিমে ১ টাকা ৪০ পয়সা ঘাটতি। এ ঘাটতি কীভাবে খামারিরা পূরণ করবে। এভাবে চলতে থাকলে খামার বন্ধ হয়ে যাবে।’

পৌর শহরের অরণকোলা এলাকার খামারি সেলিম জোয়াদ্দার জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার খামারে দুই হাজার লেয়ার মুরগি আছে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৬ টাকা ৪০ পয়সা। ডিমের দাম যদি না বাড়লে প্রতিমাসে প্রায় এক লাখ টাকা লোকসান হবে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের মতো ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিদের পথে বসতে হবে। উৎপাদন খরচ বিবেচনা করে সরকার ডিমের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করে দিলে খামারিরা লোকসানের কবল থেকে রক্ষা পেতো।’

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত খামারি ও পাবনা জেলা পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আকমল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, খাদ্যের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে আর ডিমের দাম কমছে। এভাবে ডিমের দাম কমতে থাকলে বাধ্য হয়েই প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র খামারিরা কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে। তখন ডিম উৎপাদনকারী বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সিন্ডিকেট করে ডিম ও মুরগির মাংসের দাম বাড়িয়ে দেবে। তখন বাধ্য হয়ে বেশি দামে ভোক্তাদের ডিম কিনতে হবে। তাই সরকারের কাছে ক্ষুদ্র খামারিদের দাবি ডিমের বাজারদর ওঠানামা করার পেছনে যে সিন্ডিকেট আছে তার লাগাম এখনই টেনে ধরা। যাতে খামারিরা ডিম উৎপাদন করে লাভবান হতে পারে এবং ভোক্তারা ন্যায্যমূল্য ডিম কিনতে পারে।

শেখ মহসীন/এসজে/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।