‘ভাই’ সম্বোধন করায় সাংবাদিকের ওপর চটলেন প্রকৌশলী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ১০:০৪ পিএম, ২৬ নভেম্বর ২০২২
প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান

‘ভাই’ সম্বোধন করায় সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে। তাকে স্যার, মহোদয় কিংবা সাহেব সম্বোধন করার জন্য তিনি ওই সাংবাদিককে নির্দেশ দেন।

শনিবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে দৈনিক বাংলাদেশের খবরের কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা রাশেদুল ইসলাম রাশেদ ত্রিমোহনী সাহা পাম্প থেকে পলাশবাড়ী সড়ক সংস্কার কাজের অনিয়মের বিষয়ে মোবাইলফোনে প্রকৌশলীকে ফোন দেন।

এসময় ওই সাংবাদিক এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে ভাই সম্বোধন করলে তিনি রেগে যান। বলেন, এলজিইডির একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাকে কীভাবে সম্বোধন করতে হয় এটাও জানেন না?

এসময় সাংবাদিক রাশেদুল ইসলাম প্রকৌশলী মাসুদুর রহমানকে বলেন, আপনি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, জনগণের টাকায় বেতন হয় আপনার, আপনাকে কেন স্যার বলতে হবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, জনগণের টাকায় বেতন খাই তাতে সমস্যা কী? মহোদয় কিংবা সাহেব বা অন্য কিছু বলবেন। কীভাবে একজন এক্সিকিউটিভ (নির্বাহী) অফিসারকে কী বলে অ্যাড্রেস (সম্বোধন) করতে হয় তা শিখবেন আগে।

এছাড়া সাংবাদিক রাশেদুল কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন কী না, তাও জানতে চান ওই প্রকৌশলী।

স্থানীয় একাধিক সাংবাদিক অভিযোগ করেন, কুড়িগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান জেলার একাধিক সিনিয়র সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। তার অফিসকক্ষে প্রবেশের জন্য আগাম অনুমতি নিতে বাধ্য করেন। কোনো বিষয়ে তথ্য দিতেও টালবাহানা করেন তিনি।

বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগ্যান বলেন, এই জেলার মানুষের সারল্যের সুযোগে জেলার প্রত্যেক সরকারি দপ্তরের কর্তারা যেন পেয়ে বসেন! তারা এখানে ধরাকে সরা জ্ঞান করে চলেন।

সময় টিভির কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি বাদশা সৈকত বলেন, একজন সাংবাদিক তথ্যের জন্য ফোন দিয়ে একজন কর্মকর্তাকে ভাই সম্বোধন করতেই পারেন, এটা দোষের কিছু না। মহোদয় কিংবা সাহেব ভাষাগুলো সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব তৈরি করে। ভাই সম্বোধন করাই ভালো।

সিনিয়র সাংবাদিক ও কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি রাজু মোস্তাফিজ বলেন, একজন সাংবাদিক কিংবা জনগণ কখনোই কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে স্যার, মহোদয়, সাহেব এভাবে সম্বোধন করতে বাধ্য না। তাদের সার্ভিস বইতে এমন নিয়ম নেই। যদি তিনি এভাবে বলার জন্য চাপ প্রয়োগ করে থাকেন তাহলে অবশ্যই তিনি অতিরঞ্জিত বলেছেন। তাছাড়া সংবিধানেও বলা নেই যে তাদেরকে স্যার বলতে হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, প্রতিটি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রজাতন্ত্রের গোলাম। জনগণ তাদের ‘স্যার’ বলতে বাধ্য নয়, বরং তারা জনগণকে ‘স্যার’ বলতে বাধ্য। এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর দাম্ভিক আচরণ নিশ্চিতভাবে সংবিধান পরিপন্থী।

বিষয়টি নিয়ে জানতে কুড়িগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমানের মোবাইলফোনে কল করা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, এ বিষয় নিয়ে এখন কোনো কথা নেই। আগামীকাল অফিসে আসেন, কথা হবে।

এমআরআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।