জিপিএ-৫ পেলো বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দেওয়া জারিফ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী
প্রকাশিত: ০১:০৮ পিএম, ২৯ নভেম্বর ২০২২

নীলফামারী সদর উপজেলায় বাড়িতে বাবার মরদেহ রেখে পরীক্ষা দিতে যাওয়া আব্দুল্লাহ মোক্তাদির জারিফ জিপিএ ৫ পেয়েছেন।

সোমবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর রাতে এ তথ্য জানা যায়।

জেলা শহরের নীলফামারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় জারিফ। সে সদর উপজেলা গোড়গ্রাম ইউনিয়নের মাঝ পাড়া গ্রামের মৃত মাহাতাব উদ্দিনের ছেলে।

জানা গেছে, চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ভোর রাতে জারিফের বাবা মাহাতাব উদ্দিন কিডনি জনিত রোগে মারা যান। এ সময় তার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলছিল। ১৫ সেপ্টেম্বর তার বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা ছিল। বাবা মারা যাওয়ার পর ভেঙে পরেছিলেন জারিফ। বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে শোকে কাতর হয়ে সেদিন পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছিল জারিফকে। তবে বাবা মারা গেছেন এটি বুঝতে দেননি সহপাঠী বা শিক্ষকদের। পরীক্ষা শেষে এসে বাবার মরদেহ দাফন করে জারিফ। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে নীলফামারীর জেলা প্রশাসকের নজরে আসে।

এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর খবরটি শুনে সদর উপজেলার গোড়গ্রাম মাঠপাড়া মাদরাসা এলাকার জারিফের বাড়ি গিয়েছিলেন জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন। ওই সময় ভবিষ্যতে যেকোনো সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

জিপিএ-৫ পেলো বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দেওয়া জারিফ

জারিফের বড় ভাই জামিল হোসেন বলেন, ওর রেজাল্টে আমরা সবাই খুব খুশি। তবে বাবা থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতো। তার জন্য সৈয়দপুর টেকনিক্যাল কলেজসহ দেশের ভালো মানের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির চেষ্টা করবো।

জারিফের মা জোলেখা খাতুন বলেন, জারিফের রেজাল্টে আমি খুব খুশি। কিন্তু ওর বাবাকে হারিয়ে কষ্টে আছি। তবে এই আনন্দ কিছুটা সেই কষ্ট ঘুচিয়েছে। ওর বাবা বেঁচে থাকলে অনেক খুশি হত। সবাই আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য অলিয়ার রহমান বলেন, জারিফ আর আমার ছেলে আরাফাত দুজনে বন্ধু। তাদের মধ্যে জারিফ লেখাপড়ায় অনেক ভালো। দোয়া করি সে যেন ভালো কিছু করতে পারে।

নীলফামারী সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম রব্বানী বলেন, জারিফের এমন রেজাল্টে আমরা আনন্দিত। বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দিয়েও সে এমন রেজাল্ট করেছে এতে আমরা গর্বিত। তাছাড়াও সে এমনিতেই অনেক মেধাবী ছাত্র।

জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন বলেন, আমি অনেক আনন্দিত, আসলে জারিফ একজন মেধাবী ছাত্র। সে ভবিষ্যতে ভালো কিছু করতে পারবে। ভবিষ্যতে তার যেকোনো সহযোগিতায় আমি থাকব ইনশাআল্লাহ।

রাজু আহম্মেদ/জেএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।