বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবন জরাজীর্ণ, খসে পড়ছে পলেস্তারা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নড়াইল
প্রকাশিত: ০৬:১১ পিএম, ২৯ নভেম্বর ২০২২
খসে পড়েছে শ্রেণিকক্ষের ছাদের পলেস্তারা

বিদ্যালয় চলাকালে হঠাৎ ধসে পড়লো শ্রেণিকক্ষের ছাদের পলেস্তারা। মুহূর্তেই ছাদের বড় একটা অংশের দুর্বল রডগুলো বেরিয়ে পড়লো। আর ভেঙে পড়া পলেস্তারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেলো বেঞ্চের সবখানে। এ দৃশ্য নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার আমাদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের। তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অন্য কক্ষে থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আমাদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে তিনকক্ষ বিশিষ্ট একতলা ভবন নির্মিত হয়। এরমধ্যে একটি শ্রেণিকক্ষ, আরেকটি প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষক ও কর্মচারীদের অফিস কক্ষ। তার পাশের কক্ষটি ছাত্রী মিলনায়তন। এছাড়া টিনশেডের দুটি ঘরে থাকা চারটি শ্রেণিকক্ষে চলে পাঠদান।

বর্তমানে পাকা ভবনের তিনটি কক্ষের অবস্থা খুবই নাজুক। বছর দুয়েক আগে শিক্ষকদের অফিস কক্ষের পলেস্তারাও ভেঙে পড়েছিল। এছাড়া কক্ষগুলোর ফ্লোরও অনেকটা দেবে
গেছে। সবশেষ ১৭ নভেম্বর দুপুরে নবম শেণির কক্ষের পলেস্তারা খসে পড়ে। সবমিলে ভবনটি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তবুও নিরুপায় হয়ে ভবনটি ব্যবহার করতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়টিতে আর কোনো পাকা ভবন নেই। এছাড়া টিনশেডের দুটি ঘর থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এখানে চারটি শ্রেণিকক্ষ থাকলেও প্রয়োজন রয়েছে সাতটির। আর টিনের ঘরে প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের অফিস করার মতো ভালো ব্যবস্থা নেই।

বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী লামিয়া ও মাহফুজ শেখ জানায়, ‘বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় চলাকালে জরাজীর্ণ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ায় আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। ওই কক্ষে আর পাঠদান হচ্ছে না, ঢুকতেও ভয় পাচ্ছি। কর্তৃপক্ষ এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন একটি ভবন দেবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আলমগীর গাজী জাগো নিউজকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও নতুন ভবন পাচ্ছি না। ভগ্নদশা ভবনটিতে পাঠদানসহ শিক্ষক-কর্মচারীদের অফিস করতে ভয় করছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা মৃত্যু ঝুঁকিতে আছি। কখন কী হয়, সেই আতঙ্কের মধ্যেই থাকতে হয়। আমাদের দাবি নতুন একটি ভবন চাই।’

প্রধান শিক্ষক নির্মল কুমার কুন্ডু জাগো নিউজকে বলেন, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে একটি মাত্র পাকাভবন থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান দিতে খুব সমস্যা হচ্ছে। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ৩৫০ শিক্ষার্থী আছে। অথচ অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার অভাব আছে। আমাদের একটাই দাবি, নতুন একটি ভবন চাই। আশা করছি সরকার এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম ছায়েদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টির খোঁজ নেওয়া হবে। নতুন ভবন অনুমোদনে তাদের সহযোগিতা করা হবে।

হাফিজুল নিলু/এসজে/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।