কুড়িগ্রামে এই দিনে প্রথম ওড়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০১:০৫ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২

আজ কুড়িগ্রাম হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলার দামাল ছেলেরা সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে পাকিস্তানী হানাদারদের পরাজিত করে কুড়িগ্রামকে মুক্ত করে। সেদিন থেকে ৬ ডিসেম্বর দিনটি হানাদারমুক্ত দিবস হিসেবে পালন করে আসছে কুড়িগ্রামবাসী। এ উপলক্ষে দিনব্যাপী শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা, পুষ্পাঞ্জলি অর্পণসহ নানান অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠন।

১৯৭১ সালে দেশ মাতৃকার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১০ মার্চ জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রয়াত আহম্মদ হোসেন সরকারকে আহ্বায়ক ও আহাম্মদ আলী বকসীকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে মহকুমা সংগ্রাম কমিটি গঠিত হয়। সেদিন থেকেই তাদের নেতৃত্বে কুড়িগ্রামের মুক্তিকামী মানুষ যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকে।

কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল হাই সরকারের নেতৃত্বে ৩৩৫ জন মুক্তিযোদ্ধার একটি দল ৬ ডিসেম্বর বিকেল ৪টায় পাকিস্তানি হানাদারদের পিছু হটিয়ে কুড়িগ্রাম শহরে প্রথম প্রবেশ করে। ২শ৩০ দিন পাকহানাদার বাহিনীর হাতে অবরুদ্ধ থাকার পর ৬ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে টিকতে না পেরে পাকবাহিনী গুলি করতে করতে ট্রেনযোগে কুড়িগ্রাম ত্যাগ করে। এরপর বীরপ্রতীক আবদুল হাইয়ের নেতৃত্বে ওই দিন বিকাল ৪টার দিকে কুড়িগ্রাম নতুন শহরস্থ পানির ট্যাংকারের ওপর স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করার মাধ্যমে কুড়িগ্রাম হানাদার মুক্ত করা হয়।

শত ত্যাগের বিনিময়ে আসে এই বিজয়। বিজয়ের আনন্দ যেন স্বজন, সম্ভ্রম, সম্পদ হারানো নিঃস্ব মানুষগুলোকে ভুলিয়ে দেয় সব কষ্ট। বারুদের গন্ধ তখনও বাতাসে, আকাশে স্বজনের গগন বিদারী আর্তনাদ। তবুও মানুষগুলো বিজয় আনন্দ মেতে ওঠে। স্বজন হারানোর বেদনা নিয়েও স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে চারিদিকে ছড়িয়ে দেয় বিজয় বার্তা তারা। টানা ছয় দিনের সম্মুখ যুদ্ধে পাকবাহিনীর হাতে দুইজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন এবং শিশুসহ সাধারণ মানুষ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন নিহত হয়। এছাড়াও মুক্তিবাহিনীর হাতে ২৫ জন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়।

তাই আজও কুড়িগ্রামের ২৩০ দিনের মুক্তিযুদ্ধে হাতিয়া গণহত্যা, ঠাঁটমারী গণহত্যা, নিলেরকুটি গণহত্যাসহ অসংখ্য নৃশংস হত্যাযজ্ঞের ঘটনার কথা স্মরণ করে শহীদের স্বজনেরা চোখের জল মোছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বলেন, একেরপর এক যুদ্ধে পাকবাহিনীকে পরাস্ত করেছি থ্রি নট থ্রি রাইফেল দিয়ে। প্রতিশোধের আগুন তাদের যুবক বয়সে মনকে নাড়া দেয়। আমরা জীবনের মায়া ত্যাগ করে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. আব্দুল বাতেন সরকার বলেন, ৬ ডিসেম্বরের স্মৃতি আজও মনকে নাড়া দেয় । সে দিন বিজয়ের আনন্দে মানুষ আত্মহারা হয়ে গিয়েছিল।

তিনি বলেন, ৫ ডিসেম্বর রাতে চারদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধারা কুড়িগ্রাম শহর ঘিরে ফেলে। পাক বাহিনীর উপর আক্রমণ শুরু করলে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। পরে তারা ট্রেনযোগে এমনকি পায়ে হেটে রংপুরের উদ্দেশে পালিয়ে যায়। এরপর ৬ ডিসেম্বর কুড়িগ্রাম সম্পূর্ণরূপে হানাদার মুক্ত হয়। গোটা মহকুমার মানুষ আনন্দ উল্লাস করে স্বাগত জানায় মুক্তিযোদ্ধাদের।

বীর প্রতীক আব্দুল হাই সরকার বলেন, বঙ্গবন্ধুর ডাকে দেশের দামাল ছেলেরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আদর্শ সোনার বাংলাদেশ গড়তে অপশক্তির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব এখন আমার আপনার সবার। নতুন প্রজন্ম যেন সব স্তরে মহান স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

ফজলুল করিম ফারাজী/জেএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।