বিজয়ের দুদিন পর হানাদারমুক্ত হয়েছিল নওগাঁ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৮:৫৭ এএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০২২
মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে নওগাঁয় নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ

আজ ১৮ ডিসেম্বর নওগাঁ হানাদারমুক্ত দিবস। টানা কয়েক ঘণ্টার যুদ্ধে পরাস্ত ১৯৭১ সালের এ দিনে নওগাঁয় যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে পাক সেনারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঢাকায় আত্মসমর্পণ করে। তবে নওগাঁয় অবস্থান নেওয়া পাকসেনারা আত্মসমর্পণ করবে না বলে ঘোষণা দেয়। ফলে কমান্ডার জালাল হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে পর দিন সকাল ৭টার দিকে প্রায় ৩৫০ জন মুক্তিযোদ্ধা নওগাঁ শহরের দিকে আসতে থাকেন। ১৭ ডিসেম্বর শীতের সকাল। মুক্তিবাহিনী জগৎসিংহপুর ও খলিশাকুড়ি গ্রামে আসতেই পাক হানাদাররা ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে। সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উভয় পক্ষে যুদ্ধ হয়। এ সময় পাঁচজন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

১৮ ডিসেম্বর সকালে বগুড়া থেকে অগ্রসরমান ভারতীয় মেজর চন্দ্রশেখর, পশ্চিম দিনাজপুর বালুরঘাট থেকে পিবি রায়ের নেতৃত্বে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনী নওগাঁয় প্রবেশ করলে হানাদার বাহিনীর আর কিছুই করার ছিলনা। ফলে সকাল ১০টার দিকে প্রায় দুই হাজার পাকসেনা নওগাঁ কেডি স্কুল থেকে পিএম গার্লস স্কুল, সরকারি গার্লস স্কুল, পুরাতন থানা চত্বর এবং এসডিও অফিস থেকে শুরু করে রাস্তার দু’পাশে মাটিতে অস্ত্র রেখে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে নতমস্তকে আত্মসমর্পণ করে।

তৎকালীন নওগাঁ মহকুমা প্রশাসক সৈয়দ মার্গুব মোরশেদ মুক্তি বাহিনী ও মিত্র বাহিনীকে স্বাগত জানান। বর্তমান পুরাতন কালেক্টরেট (এসডি) অফিস চত্বরে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন হয়। সেখানে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারা পতাকার প্রতি সালাম জানিয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন। ফলে নওগাঁ হানাদারমুক্ত হয় ১৮ ডিসেম্বর।

nao-(2).jpg

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নওগাঁ জেলা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার হারুন অল রশিদ বলেন, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস পালনের পাশাপাশি ১৮ ডিসেম্বর ‘নওগাঁ হানাদার মুক্ত’ দিবস পালন করা হলে তরুণ প্রজন্মরা জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে পারবেন। অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের মহান স্বাধীনতা। এ বিজয় অর্জনে অনেক রক্ত দিয়ে হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সবাইকে জানতে হবে।

নওগাঁর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন একুশে পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট ডি.এম আব্দুল বারী জাগো নিউজকে বলেন, প্রতিবছর এ দিনটিকে নওগাঁ হানাদার মুক্ত দিবস হিসেবে আমরা পালন করি। যেখানে অলোচনা সভা ও শোভাযাত্রা, ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতাসহ নানা ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ বছর ফুটবল খেলার আয়োজন করা হয়েছে। আমরা আশা করছি সরকারি ভাবেও যেন নওগাঁ হানাদার মুক্ত দিবস পালন করা হয়।

আব্বাস আলী/এসজে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।