মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদে খরচ বাড়লেও লাভের আশা চাষিদের
মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পাড় করছেন ফরিদপুরের কৃষকরা। তবে শ্রমিকের মূল্যবৃদ্ধি, সার-ডিজেল ও কীটনাশকসহ সব উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় পেঁয়াজ আবাদে খরচ বেড়েছে দেড়গুণের মতো। তবে অন্যবারের চেয়ে দ্বিগুণ খরচের পরও ফলন ভালো আর আমদানি না করা হলে লাভবান হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলায় চলতি মৌসুমে চার হাজার ৫৫৮ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদ হচ্ছে। এ পেঁয়াজ চাষে আগে বিঘা প্রতি ব্যয় হতো ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। বর্তমানে সেই ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায়। এই পেঁয়াজ হেক্টরপ্রতি ১৫ থেকে ১৮ টন উৎপাদন হয়। আর শীত মৌসুমে দেশে পেঁয়াজের কিছুটা ঘাটতি থাকে। তখন চাষিদের এই মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে এলে কিছুটা হলেও স্বস্তি আসে।
জেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, কৃষকেরা কেউ মুড়িকাটা পেঁয়াজের চারা গাছের যত্ন নিচ্ছেন। কেউবা চারায় সার-কীটনাশক ও নিড়ানি দেওয়ার কাজ করছেন।

সদরের চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের আবজাল মণ্ডলের ডাঙ্গীর এলাকার চাষি তুরাফ মণ্ডল জাগো নিউজকে বলেন, মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদে ব্যস্ত চাষিরা। কিন্তু এবার খরচ বেড়েছে। তারপরও বাজারের বিদেশি পেঁয়াজের আমদানি স্বাভাবিক থাকলে প্রতি একরে যে পেঁয়াজ আমরা উৎপাদন করতে পারবো সেটা বেশ ভালো টাকায় বিক্রি করতে পারবো।
সদর উপজেলার অম্বিকাপুরের মাঠের পেঁয়াজ চাষি মো. রাজন শেখ জাগো নিউজকে বলেন, এবার অগ্রিম মুড়িকাটা পেঁয়াজের লাইট (ছোট পেঁয়াজ) রোপণ করেছিলাম। ফলন বেশ ভাল হবে মনে হচ্ছে। সার-ওষুধ ও ঘাস নিড়ানির কাজ করা হচ্ছে। এখন শ্রমিকের চাহিদা ও দর অনেক বেশি।
আরেক কৃষক ফরহাদ শেখ বলেন, গত বছরের তুলনায় সব উপকরণের দাম বাড়ায় বেশ চিন্তায় আছি। এ পেঁয়াজে বাজারে ভাল দাম না পেলে আর্থিক লোকসানের মুখে পড়তে হবে।

বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর গ্রামের পেঁয়াজ চাষি আক্কাস আলী জাগো নিউজকে বলেন, বাজারের সার, কীটনাশক, লাইট পেঁয়াজের (বীজ) দাম বাড়ার ফলে এবার উৎপাদন খরচ তুলনামূলক বেড়েছে। সরকার যদি বিদেশি পেঁয়াজ আমদানি না করে তাহলে পেঁয়াজ চাষিদের লাভ হবে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জিয়াউল হক বলেন, বর্তমানে চাষিরা মুড়িকাটা পেঁয়াজের চারা পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। চলতি মৌসুমে জেলায় চার হাজার ৫৫৮ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ হচ্ছে।
বর্ষার পানি নামার পরপরই মুড়িকাটা পেঁয়াজের চাষাবাদ শুরু করা হয়। এ পেঁয়াজের আবাদ খরচ তুলনামূলক একটু বেশি হলেও অল্প সময়ে এই ফসল ঘরে তোলা যায়। বছরের এই সময়ে (শীত মৌসুমে) সারাদেশেই পেঁয়াজের ঘাটতি থাকায় মুড়িকাটার চাহিদা থাকে বেশ। এজন্য ভাল দাম পান চাষিরা।
এন কে বি নয়ন/জেএস/এমএস