পরিবারে ফিরেছেন পথ হারানো বাকপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৯:৪৬ পিএম, ২৪ ডিসেম্বর ২০২২
ভাই শহিদুল ইসলামের কাছে কিরণকে হস্তান্তর করা হয়

পথ হারিয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় অবস্থান নেওয়া বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা কিরণ (৬২) তার আপন ঠিকানা খুঁজে পেয়েছেন। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার সোনাপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন ওই বৃদ্ধ।

শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়ারুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, পথ হারিয়ে প্রায় পাঁচমাস আগে বৃদ্ধ কিরণ ভাঙ্গা পৌর শহরের একটি আবাসিক হোটেলের সামনে আসেন। পরে সেখান থেকে তার কাছে থাকা ব্যাগ চুরি হয়ে যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ী মহিউল হকের সহযোগিতায় ভাঙ্গার একটি হোটেলে কিরণের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা হয়। তবে তিনি নিজের বাড়িতে ফিরে যেতে চান।

এ নিয়ে শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) জাগোনিউজ২৪.কম-এ ‘পথ হারিয়ে ৫ মাস ধরে ফরিদপুরে বাকপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এছাড়া ওসি মো. জিয়ারুল ইসলামও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে কিরণের হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে পোস্ট করেন।

পরিবারে ফিরেছেন পথ হারানো বাকপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধ

ওসি জিয়ারুল বলেন, বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী কিরণকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে নিজের কাছে ভালো লাগছে। এর আগেও অসংখ্য মানবিক কাজের অংশীদার হতে পেরেছি। একজন পথহারা মানুষকে তার পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পেরেছি এটাই ভালোলাগার বিষয়।

তিনি আরও বলেন, আমি ফেসবুকে তাকে নিয়ে ছবি পোস্ট করি এবং জাগো নিউজে তাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। কিরণের পরিচিতজনরা অনলাইনে খবর দেখে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শুক্রবার দুপুরের কিরণের ভাই শহিদুল ইসলামের হাতে তাকে হস্তান্তর করা হয়।

ভাঙ্গার স্থানীয় ব্যবসায়ী মহিউল হক জাগো নিউজকে বলেন, ওই ব্যক্তিকে প্রায় পাঁচমাস আগে ভাঙ্গা পৌর শহরের একটি আবাসিক হোটেলের সামনে কাঁদতে দেখি। তার কান্নার কারণ বের করতে গিয়ে জানতে পারি তিনি বাকপ্রতিবন্ধী ও নিরক্ষর। সঙ্গে থাকা কাগজপত্রসহ ব্যাগ চুরি হয়ে গেছে। তারপর থেকে তাকে একটি হোটেলে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেই। একটি মানবিক কাজ করতে পেরে নিজের কাছে বেশ ভালো লেগেছে।

শহিদুল ইসলাম বলেন, কিরণ আমার বড় ভাই। তার পুরো নাম জসীমউদ্দিন কিরণ। আমার ভাই চট্টগ্রামে আবুল খায়ের গ্রুপের একটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় সাত মাস আগে একটি বাসে নোয়াখালীর নিজ বাড়ির উদ্দেশ্য রওয়ানা দেন। পথ হারিয়ে ভাঙ্গায় চলে যান। আমরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও তার সন্ধান পাচ্ছিলাম না। অবশেষে ভাঙ্গার খবর পাই। ওসি জিয়ারুলের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি নিজ খরচে আমার ভাইকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

এন কে বি নয়ন/এসজে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।