ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে উপ-নির্বাচন

আওয়ামী লীগের ৫০ বছরের তৃষ্ণা মেটাতে পথের কাঁটা জামাই-শ্বশুর

আবুল হাসনাত মো. রাফি আবুল হাসনাত মো. রাফি , ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৬:২৪ পিএম, ২৬ ডিসেম্বর ২০২২

জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) উকিল আব্দুস সাত্তার ভুইয়া। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে উপ-নির্বাচনে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এই নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় ৫০ বছর পর আসনটির দখল নিতে মরিয়া আওয়ামী লীগ। তবে এই আসনে আওয়ামী লীগের বাইরে শক্ত অবস্থানে আছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) সাবেক এমপি জিয়াউল হক মৃধা। তিনি মহাজোট থেকে দুবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারও তার পাশাপাশি এই আসনে নির্বাচন করতে আগ্রহী তার জামাতা ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভুইয়া।

নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সরাইল থেকে রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু, সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দুইবারের উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর, সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল হোসেন, সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ঠাকুর রাব্বি, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আনোয়ার পারভেজ টিংকু, সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আইন সম্পাদক সৈয়দ তানভীর হোসেন কাউছার, সরাইল উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফ উদ্দিন মন্তু, ইউনির্ভাসেল মেডিকেল কলেজের এমডি আশিষ চক্রবর্তী এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ও সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম (শিউলি আজাদ)।

আশুগঞ্জ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন মঈন, আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু, ঢাবি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান আনসারি, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হান্নান রতন, আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সি, আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিউল্লাহ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আবু নাসের মিয়া, আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান, আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউর রহমান কবীর, ধানমন্ডি আওয়ামী লীগের কামাল আহমেদ ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা মুজিবুর রহমান।

আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আবু আসিফ আহমেদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৭৩ সালে তৎকালীন কুমিল্লা-২ আসনে সরাইল থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তাহের উদ্দিন ঠাকুর জয়লাভ করেছিলেন। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরেও এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী জয়লাভ করতে পারেননি। এই আসনে পাঁচবার এমপি হয়েছেন বিএনপির উকিল আব্দুস সাত্তার ভূইয়া। তবে ২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের মুফতি আমিনীকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তিনি জয়লাভ করেন।

পরে মহাজোটের হয়ে ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে এই আসনে জয়লাভ করেন জিয়াউল হক মৃধা। সবশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মহাজোটের জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। সেসময় জাতীয় পার্টির প্রার্থী বাছাইয়ে জিয়াউল মৃধা ও তার মেয়ের জামাতা রেজাউল ইসলাম ভূইয়ার মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়। নির্বাচনে পঞ্চমবারের মতো জয় লাভ করেন বিএনপি প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী উকিল আব্দুস সাত্তার ভূইয়া। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মঈন উদ্দিন মঈন।

আসন্ন এই উপ-নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বিএনপি। তাই আসনটি নিজেদের দখলে নিতে মরিয়া আওয়ামী লীগ। তবে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী জয়লাভ করতে পথের কাঁটা জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি জিয়াউল হক মৃধা ও তার জামাতা রেজাউল ইসলাম ভূইয়া। সাবেক এমপি মৃধা স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয়তায় অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন।

সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দুইবারের সরাইল উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুরকেও ফ্যাক্ট মনে করছেন নেতাকর্মীরা। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সরাইলের ৯টি ইউপির মধ্যে দলীয় মনোনয়নের বাইরে ছয়জন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী জয়লাভ করেন রফিক ঠাকুরের একক সমর্থনে। রফিক উদ্দিন ঠাকুরও নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী। গত নির্বাচনে সামান্য ভোটে পরাজিত হওয়া কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মঈন উদ্দিন মঈনও আওয়ামী লীগের মনোনয়নের আলোচনায় রয়েছেন।

এ বিষয়ে সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্ভাব্য প্রার্থী নাজমুল হোসেন বলেন, ‘১৯৭৩ সালের পর এই আসনে আওয়ামী লীগ কোনো এমপি পায়নি। আমরা উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছি। এবার দল থেকেই প্রার্থী চাই। আশা করছি, প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা আমাকে মূল্যায়ন করবেন।’

সাবেক এমপি জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী জিয়াউল হক মৃধা বলেন, ‘আমি এমপি থাকাকালীন এই আসনে উন্নয়ন করেছি। সাধারণ মানুষ আমাকে পছন্দ করেন। পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ মাঠে কাজ করার জন্য বলেছেন। দল আমাকেই মূল্যায়ন করবে বলে আশাবাদী।’

জাতীয় পার্টির আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী জিয়াউল হক মৃধার মেয়ের জামাতা জাপার কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূইয়া বলেন, আমি দলীয় মনোনয়ন পেতে আশাবাদী। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। সামনে দলের সভা রয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত হবে।

এসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।