মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নওগাঁ পৌরবাসী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৬:৪১ পিএম, ২৭ ডিসেম্বর ২০২২

মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নওগাঁ পৌরবাসী। বাসাবাড়ি, শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস সব জায়গায় মশার উপদ্রব। কয়েল কিংবা স্প্রে সব কিছুই যেন মশার কাছে হার মানছে। ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করেও যেন রেহাই নেই।

জানা গেছে, ১৯৬৩ সালের ৭ ডিসেম্বর ৩৮ দশমিক ৩৬ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে নওগাঁ পৌরসভা যাত্রা শুরু করে। ১৯৮৯ সালে পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত করা হয়। বর্তমানে পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ড রয়েছে। যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ, ড্রেনের ঢাকনা না থাকা, ড্রেনের পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া ছাড়াও নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম না হওয়ায় বেড়েছে মশার উপদ্রব। মশার কয়েল কিনতে বাড়তি টাকা খরচ করেও মিলছে না উপকার।

নওগাঁ পৌরসভার হিসাব শাখা সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ডেঙ্গু ও মশা নিধন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রথম কিস্তিতে দেড় লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে। দ্বিতীয় কিস্তির আরো দেড় লাখ টাকা বরাদ্দ আসবে। তবে গত অর্থ বছরে প্রায় ৭ লাখ টাকার বরাদ্দ এসেছিল।

পৌরবাসীর অভিযোগ, শুধু কাগজে কলমে এটি একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। নিয়মতি ড্রেন পরিষ্কার না করায় এবং যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে মশার উৎপাত বেড়েছে। পৌরসভার মশক নিধন কার্যক্রমের অভাবে মশার বিস্তার চরম আকার ধারণ করেছে। নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় মশকনিধন কার্যক্রম করা হলেও বাকিগুলোতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না।

মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নওগাঁ পৌরবাসী

খাস-নওগাঁ মহল্লার বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মশার এত উৎপাত যা বলে প্রকাশ করার মতো না। পৌরসভা থেকে নিয়মিত মশকনিধন স্প্রে করার কথা থাকলেও তা করা হয় না। এ কারণে মশার উৎপাত বেড়েছে। সন্ধ্যার আগেই ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে দিতে হয়। কয়েল জ্বালিয়েও রক্ষা নেই।

জনকল্যাণ মহল্লার গৃহবধূ রোকেয়া বলেন, দিনের বেলায়ও মশার কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হয়। বাচ্চাদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। মশারির মধ্যে পড়াশুনা করাতে হয়। এছাড়া ড্রেনে ময়লা জমে পানি ঠিকমতো নিষ্কাশন না হওয়ায় দুর্গন্ধ ছড়ায়।

স্কুলশিক্ষার্থী সুখি ও মুশফিকুর রহমান জানায়, মশার কারণে আমরা ঠিকমতো পড়াশুনা করতে পারি না। কয়েল জ্বালিয়েও কোনো কাজ হয় না। মশা যেখানে কামড়ায় সেখানে জ্বালা করে ও ফুলে ওঠে।

জনকল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুর রাকিব বলেন, স্কুলের পাশ দিয়ে ড্রেন থাকায় শ্রেণিকক্ষে মশার উপদ্রবটা একটু বেশি। যার কারণে শিক্ষার্থীদেরও একটু সমস্যা হয়। এছাড়া মশার পাশাপাশি ড্রেনের দুর্গন্ধও আছে। হঠাৎ হঠাৎ মশা নিধনের কীটনাশক স্প্রে করতে দেখা যায়। তবে যদি নিয়মিত মশকনিধন স্প্রে করা হয় তাহলে অনেকটাই সুবিধা হবে।

মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নওগাঁ পৌরবাসী

পৌরসভাকর্মী শেরে-বাংলা বলেন, চারটি ফগার মেশিনের মধ্যে তিনটি নষ্ট হয়ে আছে। একটি মেশিন দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ফগার মেশিনের খরচটা বেশি হওয়ায় কম ব্যবহার করা হয়। তবে হ্যান্ড মেশিন তিনটি দিয়ে তিনজন কর্মী পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় স্প্রে করা হয়।

নওগাঁ পৌরসভার মেয়র মো. নাজমুল হক সনি বলেন, পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত পর্যায়ক্রমে মশক নিধনের কার্যক্রম করা হয়। এ কারণে মশার উপদ্রব কিছুটা কম। তবে জনবল সংকট ও অর্থ বরাদ্দ কম থাকায় অনেক সময় মশক নিধন কাজ ব্যহত হচ্ছে। তবে মশা নিধনের জন্য সময় লাগবে।

নওগাঁ সিভিল সার্জন ডা. মো. আবুহেনা মোহাম্মদ রায়হানুজ্জামান সরকার বলেন, ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত রোগ। নভেম্বর মাস থেকে এ পর্যন্ত জেলায় ৪১ জন ডেঙ্গুরোগী চিকিৎসা নিয়েছে। যার অধিকাংশ ঢাকা ফেরত। এরমধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ডেঙ্গু রোগ থেকে রক্ষা পেতে মশকনিধন গুরুত্বপূর্ণ। মশক নিধনে পৌরসভার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। বাসাবাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাসহ সবাইকে সচেতন হওয়ার পরামর্শও দেন এ কর্মকর্তা।

আব্বাস আলী/এফএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।