শহীদ কামরুজ্জামান টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট

অধ্যক্ষসহ পাঁচ শিক্ষক দিয়ে চলছে ৩৫০ শিক্ষার্থীর পাঠদান

আব্বাস আলী
আব্বাস আলী আব্বাস আলী , জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৪:২২ পিএম, ১২ মার্চ ২০২৩

শিক্ষক সংকটে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে নওগাঁর শহীদ কামরুজ্জামান টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটে। ৩৫০ শিক্ষার্থীকে পাঠদানে হিমশিম খাচ্ছেন অধ্যক্ষসহ পাঁচজন শিক্ষক। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ না হলে এ ইনস্টিটিউটের শিক্ষার মান কমবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২১ সালে নওগাঁ-রাজশাহী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে পাঁচ একর জায়গার ওপর দৃষ্টিনন্দন প্রতিষ্ঠানটি গড়ে ওঠে। ১৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও কর্মচারীসহ ১৪ জন কর্মরত রয়েছেন। যদিও এখানে ৩৪ জনের পদ রয়েছে। যেখানে ১৮ জন শিক্ষকের বিপরীতে অধ্যক্ষসহ শিক্ষক রয়েছে মাত্র পাঁচজন। ২০২১-২২ সেশনে দুই শিফটে পাঁচটি বিষয়ে ২৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। চলতি বছরে আরও ১০০ শিক্ষার্থী ভর্তি হয় ইনস্টিটিউটে।

সূত্র আরও জানায়, ইনস্টিটিউটে ছয়তলার একাডেমিক ভবন, ২৫২ জন ছাত্রের জন্য ছয়তলা আবাসিক হোস্টেল, ১০৪ জন ছাত্রীর জন্য তিনতলার ছাত্রী হোস্টেল, দ্বিতল বিশিষ্ট প্রিন্সিপাল কোয়ার্টার, শিক্ষকদের ডরমেটরি, স্টাফ ডরমেটরি, জুট স্পিনিং, কটন স্পিনিং, ওয়ার্কশপ কাম লাইব্রেরি, স্বয়ংসম্পূর্ণ অত্যাধুনিক মেশিনসহ ডাইং শেড, অত্যাধুনিক মেশিনসহ স্পিনিং শেড, কম্পিউটার ল্যাব, ফ্যাশন ডিজাইন শেড ও মসজিদ। প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণের ফলে এলাকার দৃশ্যপট বদলে গেছে।

অধ্যক্ষসহ পাঁচ শিক্ষক দিয়ে চলছে ৩৫০ শিক্ষার্থীর পাঠদান

আরও পড়ুন: শিক্ষক সংকটে নজিপুর সরকারি কলেজে পাঠদান ব্যাহত

ইনস্টিটিউটের মার্চেনডাইজিং অ্যান্ড মার্কেটিং বিষয়য়ে প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী তাজ আহমেদ তৌফিক বলেন- টেক্সটাইলে পড়াশুনা স্বপ্নের মতো ছিল। পছন্দের তালিকায় তিনটা টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের নাম দিয়েছিলাম। অপেক্ষার তালিকায় নাম ছিল। পরে শহীদ কামরুজ্জামান টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটে ভর্তির সুযোগ পাই।

ইয়ান মিনু ফেকচ্যারি দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক কম হওয়ায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে আমাদের পড়াশুনার মান আরও উন্নত হবে। এছাড়া হোস্টেলে থাকার পরিবেশটা অনেক সুন্দর। তবে রান্নার ঘর এবং খাবারের মান আরেকটু উন্নত হওয়া দরকার।

স্থানীয় সোহাগ রানা বলেন, উপজেলায় এমন একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ায় আমাদের জন্য সুবিধা হয়েছে। বাড়িতে থেকে ও খেয়ে সন্তানরা পড়াশুনা করতে পারছে। এতে খরচও কম হচ্ছে। পড়াশুনা শেষে তারা কর্মজীবনে গিয়ে ভাল কিছু করবে এমন প্রত্যাশা করছি।

অধ্যক্ষসহ পাঁচ শিক্ষক দিয়ে চলছে ৩৫০ শিক্ষার্থীর পাঠদান

আরও পড়ুন: সংকট কাটেনি ইবির নতুন ৯ বিভাগে

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিম বলেন, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম। কয়েক বছরের মধ্যে হাজারের মতো হবে। তখন আশপাশে ছাত্রাবাস-ছাত্রীনিবাস, খাবারের হোটেল ও বাজারসহ বিভিন্ন দোকানপাট গড়ে উঠবে। এতে মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে এলাকার উন্নয়ন হবে।

শহীদ কামরুজ্জামান টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জনবল সংকটের মধ্যদিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তাত্ত্বিক ক্লাস হওয়ায় আপাতত কোনো সমস্যা হচ্ছে না। ব্যবহারিক ক্লাস শুরু হলে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হবে। দ্রুত জনবল নিয়োগ করা হলে পাঠদান স্বাভাবিক হবে।

আব্বাস আলী/আরএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।