ফরিদপুরে ‘ছেলেধরা সন্দেহে’ গণপিটুনিতে নিহত যুবকের পরিচয় মিলেছে
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। পরে ওই যুবকের পরিচয় মিলেছে। তার নাম সামছেল মোল্লা (৩৪)। তিনি ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদাহ ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বারেক মোল্লার ছেলে।
সামছেল মোল্লা একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ও নেশাগ্রস্ত প্রকৃতির বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ কারণে তার দুই স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।
রোববার (১৬ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে উপজেলার পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নাজিরপুর গ্রামের খায়রুল মীরের সাত বছরের ছেলে রিতাজ মীরকে সঙ্গে নিয়ে ওই যুবক রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলেন। একপর্যায়ে শিশুটিকে একটি গাড়িতে ওঠানোর চেষ্টা করেন। তখন ছেলেটি চিৎকার দিলে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার এবং ওই যুবককে আটক করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সদুত্তর দিতে না পারায় ছেলেধরা সন্দেহে তাকে বেদম প্রহার করা হয়। রাতে গুরুতর অবস্থায় ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল ইসলাম বলেন, নিহত সামছেল মোল্লার বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ও নেশাগ্রস্ত মানুষ। এ কারণে তার দুই স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়।
তিনি আরও বলেন, গতকাল সন্ধ্যার পরে একটি শিশুকে হাত ধরে টানাটানি করেন ওই যুবক। তখন ওই শিশুর সঙ্গে থাকা দুজন কলেজপড়ুয়া ছাত্রও ছিলেন। তারা এসময় ‘ছেলেধরা’ ‘ছেলেধরা’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। এসময় উৎসুক জনতা তাকে বেদম মারপিট করলে ওই যুবক মারা যান। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, সাত থেকে আট বছরের একটি শিশুকে অপহরণচেষ্টার সন্দেহে ওই যুবককে এলাকাবাসী গণপিটুনি দেয়। এতে তিনি মারা যান।
এন কে বি নয়ন/এসআর/এমএস