এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কোপালেন বান্ধবীর বাবা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ০৫:৩৬ পিএম, ০৭ মে ২০২৩

লক্ষ্মীপুরে রেস্টুরেন্টের ভেতরে ঢুকে মো. তামিম নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কোপানোর অভিযোগ উঠেছে তার মেয়ে বন্ধুর বাবা শেখ ফরিদের বিরুদ্ধে।

রোববার (৭ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পিটিআই মোড় এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থী তামিম তার বান্ধবীর বাবা ফরিদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন। ঘটনার পর থেকেই ফরিদ আত্মগোপনে আছেন।

আহত তামিম লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের মজুপুর এলাকার নুরনবী শামিমের ছেলে। সে লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। আর তার বান্ধবী লক্ষ্মীপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি দিচ্ছে।

অভিযুক্ত শেখ ফরিদ রামগতি উপজেলার বাসিন্দা। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে শহরের মোবারক কলোনি এলাকা ভাড়া বাসায় থাকেন।

হাসপাতালে আহত তামিম ও তার বন্ধুরা জানায়, ওই ছাত্রীর সঙ্গে তামিমের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা শেষে তারা দুইজন একটি রেস্টুরেন্টে খেতে যায়। খাবার খাওয়ার সময় হঠাৎ করে সাইমার বাবা রেস্টুরেন্টে ঢুকে তাদের এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে ফরিদ ছুরি দিয়ে তামিমকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

Lakshmipur-2.jpg

লক্ষ্মীপুর ফ্রাইড চিকেন অ্যান্ড শর্মা হাউসের ম্যানেজার মো. নুরনবী বলেন, আমি রান্না ঘরে ছিলাম। আমার রেস্টুরেন্টে অনেক কাস্টমার ছিল। হঠাৎ করে এক মুরুব্বি এসে দুই শিক্ষার্থীকে মারধর করেন। একপর্যায়ে আমি তাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেছি। তিনি আমাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। ছেলেটির শরীরের রক্ত দেখেছি। মেয়েটি দৌড়ে চলে গেছে। আর মুরুব্বির হাতে ছুরি দেখেছি। পরে শুনেছি, তিনি মেয়েটির বাবা ছিলেন।

বক্তব্য জানতে শহরের সমসেরাবাদ এলাকার মোবারক কলোনির ভাড়া বাসায় গিয়ে শেখ ফরিদকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ছেলে জাহিদুল ইসলাম জিপু মোবাইলফোনে এ বিষয়ে প্রতিবেদন না করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু এ নিয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক এ কে আজাদ বলেন, ছেলেটির হাত ও মাথায় তিনটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসলেহ উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বাসায় খোঁজ করে অভিযুক্তকে পাওয়া যায়নি। হাসপাতালে গিয়ে পুলিশ আহত ছাত্রসহ অন্যদের সঙ্গে কথা বলেছে। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।

কাজল কায়েস/এমআরআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।