ঝুট ব্যবসার দখল
অস্ত্রের মহড়ার ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতার ছেলেসহ গ্রেফতার ৯
গাজীপুরের আদাবৈ এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় ঝুট ব্যবসার দখল নিতে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়ার ঘটনায় শনিবার রাতে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় মহানগর আওয়ামী লীগ নেতার ছেলেসহ নয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতাররা হলেন- গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও সদর মেট্রো থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ওয়াজ উদ্দিন মিয়ার ছেলে মো. মহিউদ্দিন বিপ্লব, রাকিবুল ইসলাম শাহিন ওরফে ব্লাক শাহিন, রাকিবুল হাসান, রাকিব উদ্দিন, মো. শাহজাহান, রায়হান মাহমুদ, মনির হোসেন, খায়রুল ইসলাম ও হৃদয় হোসেন।
গাজীপুর মহানগরীর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, গাজীপুরে ঝুট ব্যবসার দখল নিয়ে অস্ত্রের মহড়ার ঘটনায় আহত শাহাদত হোসেনের মা কারিমুন বাদী হয়ে শনিবার একটি মামলা করেছেন। মামলায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫-১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারদের আজ আদালতে পাঠানো হবে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: কালিয়াকৈরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১০
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, গাজীপুর মহানগরীর আদাবৈ পেয়ারাবাগান এলাকায় নেক্সট এক্সপোর্ট জোন লিমিটেড নামের পোশাক তৈরির একটি কারখানা রয়েছে। ওই কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে ঝুট ব্যবসা করে আসছেন মোস্তফা কামাল নামের আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতা। শুক্রবার দুপুরে ওই কারখানার ঝুট মালামাল বের করতে গেলে একদল যুবক তাদের বাধা দেন। ঝুট ব্যবসা দখলে নিতে তারা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেন। আতঙ্ক ছড়াতে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়েন।
এ ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নয়জন যুবক হাতে চাপাতি, চায়নিজ কুড়াল, দেশীয় অস্ত্রসহ দৌড়ে যাচ্ছেন ঝুট ব্যবসায়ী মোস্তফার বাড়ির দিকে। তাদের মধ্যে কয়েকজন ওই বাড়িতে ইটপাটকেল ছুড়ে মারছিলেন। এ সময় হামলাকারীরা বলছিলেন, ‘তোদেরকে মেরে ফেলবো।’ পরে বাড়ির ফটকের সামনে মোস্তফার স্ত্রী ফাতেমা ও শাহাদতকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। বাড়ির সামনে গুলির একটি খোসাও পড়ে থাকতে দেখা যায়।
আরও পড়ুন: পুরোনো মাটির ঘর ভাঙতে গিয়ে মিললো গ্রেনেড
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একজন বলেন, একটি অটোরিকশায় করে ৮-১০ জন যুবকের একটি দল এসে মোস্তফার বাড়িতে আক্রমণ চালায়। এ সময় শাহাদতকে সামনে পেয়ে মারধর করা হয়। পরে তারা এসে বাড়িঘরেও ভাঙচুর করে। তবে এ সময় স্থানীয় রাহাত ও রফিকের হাতে পিস্তল দেখা যায়। শাহাদতকে উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
ঝুট ব্যবসায়ী মোস্তফা কামালের ছেলে ইয়াছিন আরাফাত বলেন, ‘আমাদের বাড়ির পাশেই নেক্সট এক্সপোর্ট জোন লিমিটেড নামের কারখানা। কারখানা নির্মাণ করার সময় আমাদের সঙ্গে চুক্তি হয়, কারখানার ঝুট ব্যবসা আমার বাবা করবেন। সেই থেকেই ব্যবসাটি আমরা করে যাচ্ছি।’
আরও পড়ুন: গাজীপুরে দুই কারখানাকে দেড়লাখ টাকা জরিমানা
স্থানীয় কাজী শাহিন ওরফে ব্ল্যাক শাহিন ও বিপ্লব ব্যবসাটির দখল নিতে যাচ্ছিলেন উল্লেখ করে ইয়াছিন বলেন, ‘শাহিন ও বিপ্লবের নেতৃত্বে ১৫-১৬ জন যুবক শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত আমাদের বাড়ির আশপাশে ওতপেতে থাকে। দুপুর ১২টার দিকে তারা আমাদের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। একপর্যায়ে তারা চায়নিজ কুড়াল, রামদাসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
জেএস/এমএস