ভাঙ্গায় অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনা

শোকে ঢাকা পড়েছে নিহতদের পরিবারে ঈদের আনন্দ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৫:২৬ পিএম, ২৮ জুন ২০২৩

ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় অ্যাম্বুলেন্সে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহতদের পরিবারে। স্বজনদের হারানোর শোক যেন কোনোভাবেই কাটিয়ে উঠতে পারছেন না তারা।

উৎসবের কোনো আমেজ নেই জেলার বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের ফেলাননগর গ্রামের নিহত তাসলিমা বেগমের বাড়িতে। স্বজন হারানোর শোকে মুহ্যমান তারা।

স্থানীয় ও নিহতের স্বজনরা জানান, দুর্ঘটনায় নিহত তাসলিমা বেগমকে শনিবার রাতে বাড়ির পাশের কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। তার মেয়ে কমলা বেগম ও তার তিন সন্তানকে উপজেলার শেখর ইউনিয়নের মাইটকুমড়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে কবর দেওয়া হয়েছে। তাসলিমা বেগমের আরেক মেয়ে বিউটি বেগম ও তার ছেলে মেহেদী হাসানকে রোববার সকালে আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের কুচিয়াগ্রামে দাফন করা হয়। এছাড়া ফরিদপুর শহরের গুহলক্ষীপুর মহল্লার সুভাষ চন্দ্র মালোর ছেলে নিহত অ্যাম্বুলেন্স চালক মৃদুল চন্দ্র মালোর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

jagonews24

নিহত তাসলিমা বেগমের ভাতিজা মো. ইমরান হোসেন বলেন, আমাদের ঈদের আনন্দ বলতে কিছুই নেই। সাতজন মানুষের নিহত হওয়ার শোক কিছুতেই কাটিয়ে উঠতে পারছি না। চাচির এক মেয়ে চায়না বেগম ও এক ছেলে আনিস শেখ রয়েছেন। তাদের মুখের দিকে তাকানো যায় না। তারা এখনও শোকের মধ্যে রয়েছে। আমার চাচা (তাসলিমার স্বামী) আজিজার শেখ বিদেশে রয়েছেন। আমাদের কোনো ঈদ নেই। কোরবানির জন্যও কোনো আয়োজন হয়নি।

আরও পড়ুন: ফরিদপুরে অ্যাম্বুলেন্সের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ৭ 

হাসমত হোসেন হাসু নামের এক প্রতিবেশী জানান, চোখের সামনে এ দৃশ্য দেখা যায় না। তাদের শোকও সহ্য করার মতো নয়। শুধু পরিবারটিই নয়। পুরো গ্রাম পুরো এলাকা শোকে কাতর হয়ে গেছে। ঈদের আনন্দও কেমন যেন ফিকে হয়ে গেছে।

শেখর ইউনিয়নের মাইটকোমরা গ্রামের আলমগীর খান দুর্ঘটনায় তিন সন্তানসহ স্ত্রীকে হারিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের কোনো ঈদ নেই। যাদের নিয়ে ঈদ করবো তারাই তো নেই। আমি তাদের ছাড়া কী নিয়ে বেঁচে থাকবো। এ শোক আমি সইবো কিভাবে?

jagonews24

শেখর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. কামাল আহমেদ জানান, এ শোক সহ্য করা যায় না। নিহতের স্বজনদের সান্ত্বনা জানানোরও কোনো ভাষা নেই। নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।

এর আগে ২৪ জুন (শনিবার) সকাল ১১টার দিকে ঢাকা থেকে বোয়ালমারী ফেরার পথে ফরিদপুরের ভাঙ্গার মালিগ্রাম এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি পৌঁছালে এক্সপ্রেসওয়ের উড়াল সড়কে ধাক্কা লেগে আগুন ধরে যায়। এসময় গাড়িতে থাকা সাতজন দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত অ্যাম্বুলেন্সচালক বিকেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

এন কে বি নয়ন/আরএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।