চেয়ারম্যান টিসিবির কার্ড না দেওয়ায় নারী মেম্বারের বিষপান

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৮:৪৮ এএম, ৩১ জুলাই ২০২৩

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে টিসিবির কার্ড না দিয়ে চেয়ারম্যান বকাঝকা করায় এক নারী ইউপি সদস্যের বিষপানের অভিযোগ উঠেছে। তিনি বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার টিসিবির পণ্য বিতরণ উপলক্ষে শুক্রবার (২৮ জুলাই) বিকেলে পরিষদ নিয়ে সভা করেন বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেন মুশা। অন্যের মাধ্যমে খবর পেয়ে সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী সদস্য হাসামদিয়া গ্রামের মোছা. শাহিনুর বেগম ইউনিয়ন পরিষদে যান। শাহিনুর বেগমের কার্ড না দিয়ে মিটিং শেষ করলে চেয়ারম্যানের কাছে তিনি কার্ড দাবি করেন।

এ সময় চেয়ারম্যান তাকে কার্ড না দিয়ে উল্টো বকাঝকা করে পরিষদ থেকে বের করে দেন। এ অপমান সহ্য করতে না পেরে বাড়িতে গিয়ে সন্ধ্যায় শাহিনুর বেগম কীটনাশক পান করেন। রাতেই তাকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ফরিদপুরে রেফার করা হলও সেখানে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে উপজলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এম এম নাহিদ আল রাকিব জাগো নিউজকে বলেন, শুক্রবার রাতে চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান। পরে শাহিনুর বেগম হাসপাতালে এলে ওয়াশ করে ফরিদপুরে রফার করা হয়। কারণ কেসটা বেশ জটিল। তিনি একসঙ্গে কীটনাশক এবং গুল পান করেছেন। এ ধরনের কীটনাশক দীর্ঘ মেয়াদী প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

ওই নারী সদস্যের স্বামী আলেক মাতুব্বর বলেন, আমরা গ্রাম্যভাবে চেয়ারম্যানের দল না করায় এবং সংসদ সদস্যের বরাদ্দ নিয়ে আমার স্ত্রী ওয়ার্ডের কিছু রাস্তা নির্মাণ করায় চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত। ইউনিয়ন পরিষদের কোনো সভার বিষয়ে তাকে জানানো হয় না। তবে শুক্রবার আমার স্ত্রী অন্যের মাধ্যমে খবর পেয়ে পরিষদের জরুরি সভায় উপস্থিত হন। এ সময় চেয়ারম্যান অন্য সদস্যদের মাঝে টিসিবির কার্ড বিতরণ করেন। তবে আমার স্ত্রীকে কোনো কার্ড না দিয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও বেতন না দেওয়ার হুমকি দেন। সে রাগে ক্ষোভে বাড়িতে এসে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে কীটনাশক পান করে। আমার স্ত্রীর কিছু হলে একমাত্র চেয়ারম্যানই দায়ী থাকবেন।

এদিকে চেয়ারম্যানের ভয়ে চিকিৎসাধীন ওই নারী সদস্য মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘নিউজ করলে কী হবে। চেয়ারম্যানের অনেক বড় হাত আছে। তিনি এটাকে পানি করে ফেলবেন। আর আমার হাতে তেমন কোনো টাকা নেই যে, তার সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকবো। অতএব আমি এখন কিছু বলতে চাই না।’

তবে দাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হাসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার সঙ্গে তার কোনো বাগবিতণ্ডা হয়নি। তিনি কী কারণে বিষপান করেছেন তা আমি জানি না। তবে তিনি শুক্রবার সভার শেষে আমার অফিস কক্ষে এলে বলেছিলাম টিসিবির কার্ড লাগবে না। লোক পাঠিয়ে দিলে তাদের দেওয়া হবে। কেন না তিনি এর আগে টিসিবির পণ্য তুলে বাড়ি নিয়ে গেছেন। এজন্য তাকে কার্ড দেওয়া হয়নি। তার স্বামীর সঙ্গে ঠিকমতো বনিবনা নেই। এ কারণেও বিষপান করতে পারেন।

এন কে বি নয়ন/এসজে/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।