খামারিদের বাঁচাতে চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটি গঠনের পরামর্শ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৯:০২ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ ও উখিয়ার পর এখন পাহাড়বেষ্টিত রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া-গর্জনিয়ায় সীমান্ত চোরাচালান বেড়েছে। মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা নাইক্ষ্যংছড়ি স্থল সীমানা পার হয়ে আসছে মাদক ও বার্মিজ গরু। এসব কারণে মাদকের আগ্রাসনের পাশাপাশি স্থানীয় পশু খামারিরও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

গত এক বছর ধরে চলে আসা এ চোরাচালান বন্ধে প্রশাসনিক নানা উদ্যোগ নেওয়ার পরও বন্ধ হয়নি মাদক ও গরু আসা। তাই স্থানীয় খামারি ও তরুণ সমাজকে বাঁচাতে গ্রামে-গ্রামে চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটি গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান।

শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে জনসচেতনা বাড়ানোর লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, এলাকার খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে গবাদিপশু লালনে বাধার সৃষ্টি হবে। মাদক ছড়ালে সমাজে বাড়বে অস্থিরতা। এতে সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে বাড়বে হয়রানি। খামারি ও তরুণ সমাজ আপনাদের কারো না কারো ভাই-স্বজন। তাই চোরাচালান প্রতিরোধে গ্রামে-গ্রামে, পাড়ায়-পাড়ায় চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটি গঠন করতে হবে। খামারি ও তরুণ সমাজকে বাঁচাতে স্থানীয় চেয়ারম্যান, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের তদারকি বাড়াতে হবে। একে অপরকে সহায়তা করলেই গবাদিপশু চোরাচালান বন্ধ করা সম্ভব। এ ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, বিজিবি, পুলিশ, চেয়ারম্যান বা অন্য কোনো সচেতন মহল এককভাবে উদ্যোগ নিলে কাজ হবে না। সবার সম্মিলিত শক্তি নিয়ে যৌথভাবে এগিয়ে আসা দরকার। নচেৎ একদিন এর কুফল সকলকে গ্রাস করবে।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা মোস্তফার সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মো. ইসমাঈল নোমান, গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান চৌধুরী বাবুল, রামু থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নাজমুল হুদা, রামুর প্রাণিসম্পদ অফিসের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আবদুল কাদের রবিন, নাইক্ষ্যংছড়ির ১১ বিজিবি প্রতিনিধি আবদুল লতিফ, গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির আইসি সাইফুল ইসলাম, গর্জনিয়া ফইজুল উলুম ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শফিউল হক চৌধুরী, গর্জনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাওসার জাহান চৌধুরী, গর্জনিয়া বাজার ব্যবসায়ী নেতা মৌলানা আলী আকবর, গর্জনিয়া বোমাংখীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী, যুবলীগ সভাপতি নজরুল ইসলাম ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার মোহাম্মদ ইউনুছ।

অধ্যাপক পরীক্ষিত বড়ুয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, সমাজকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সায়ীদ আলমগীর/এফএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।