গরম আয়রনের ছ্যাঁকায় দগ্ধ মাদরাসাছাত্রকে নেওয়া হলো ঢাকায়

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লা
প্রকাশিত: ১২:০১ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩
ফাইল ছবি

কুমিল্লার হোমনায় গরম আয়রনের ছ্যাঁকায় মারাত্মক আহত মাদরাসাছাত্র মো. আব্দুল কাইয়ুমকে (১৫) রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়েছে। বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে নিয়ে ঢাকায় রওয়ানা দিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

আব্দুল কাইয়ুম উপজেলার নয়াকান্দি মমতাজিয়া হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানায় হেফজ বিভাগের ছাত্র। সে চান্দের চর গ্রামের প্রবাসী আব্দুল কাদিরের ছেলে।

এর আগে ক্লাসে পড়া না পারা এবং ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে মাদরাসার অফিসে ডেকে নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মুহতামিম হাফেজ মো. সাইফুল ইসলাম (২৮), সহকারী শিক্ষক আতিকুল ইসলাম (৩৫) এবং তিন ছাত্র মিলে কাইয়ুমকে গরম আয়রন দিয়ে নিতম্বে ছ্যাঁকা দেন। এরপর বাড়িতে খবর দেওয়া হয় গরম পানিতে পড়ে সে ঝলসে গেছে।

খবর পেয়ে পরদিন কাইয়ুমের মা হাফেজা বেগম মাদরাসায় গিয়ে ছেলেকে নিয়ে আসেন। এরপর স্থানীয়ভাবে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে কাইয়ুমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) কাইয়ুম মায়ের কাছে ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা দেয়। তার মা থানায় অভিযোগ করলে সন্ধ্যায় পুলিশ এসে মাদরাসা থেকে সহকারী শিক্ষক আতিকুল ইসলামসহ চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে এ ঘটনায় রাতে হাফেজা বেগম বাদী হয়ে দুই শিক্ষক ও তিন ছাত্রসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে হোমনা থানায় মামলা করলে শিক্ষক আতিকুল ইসলামকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

এদিকে, হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় চিকিৎসকরা আব্দুল কাইয়ুমকে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর বুধবার বেলা ১১টার দিকে স্বজনরা তাকে নিয়ে রওয়ানা দেন।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুছ ছালাম সিকদার জাগো নিউজকে বলেন, কাইয়ুমের দুই নিতম্বেই অনেক ঘা হয়ে গিয়েছে। যার কারণে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। সেকারণে তাকে শেখ হাসিনা বার্নে স্থানান্তর করা হয়েছে।

হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন জাগো নিউজকে বলেন, আবদুল কাইয়ুমকে ছ্যাঁকা দিয়ে দগ্ধ করার ঘটনায় এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্ষেমালিকা চাকমা জাগো নিউজকে বলেন, আমরা সার্বক্ষণিক ছেলেটির খোঁজ-খবর নিয়েছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে তাকে আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে। প্রয়োজনে তাকে আরও সহায়তা করা হবে। অভিযুক্ত মুহতামিম হাফেজ সাইফুল ইসলামকে মাদরাসা থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

জাহিদ পাটোয়ারী/এমআরআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।