১০ বছরেও জনবল নিয়োগ হয়নি ঝিনাইদহ শিশু হাসপাতালে
উদ্বোধনের প্রায় ১০ বছর হতে চললেও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি ঝিনাইদহের ২৫ শয্যা বিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল। তিনজন মেডিকেল সহকারী দিয়ে কোনোমতে বহিঃর্বিভাগ চালু করা হলেও ওষুধ না থাকায় তা চলছে খুড়িয়ে খুড়িয়ে।
এখনো পর্যন্ত বিদ্যুতের লাইন লাগানো হয়নি। অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায় হাসপাতাল এলাকা গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। এছাড়াও পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে থাকতে ফাটল দেখা দিয়েছে চারটি ভবনে।
জেলা সিভিল সর্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহ শহরের বাস-টার্মিনালের পাশে ৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে শিশু হাসপাতালের ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হয় ২০০৬ সালের আগস্ট মাসে। ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে শিশু হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী। প্রশাসনিক অনুমোদন ও কোনো জনবল নিয়োগ না হওয়ায় ২০১০ সাল পর্যন্ত এটি বন্ধ ছিল। পরে ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে তিনজন মেডিকেল সহকারী ও দুইজন কর্মচারী প্রেষণে নিয়োগ দিয়ে হাসপাতালটির বহিঃর্বিভাগে চিকিৎসা সেবা চালু করা হয়। প্রথম দিকে কিছু ওষুধ সরবরাহ করা হলেও গত ২ বছর থেকে তা বন্ধ থাকায় হাসপাতালে প্রতিদিন ৫/৭ জন রোগী আসছে। এমন অবস্থায় হাসপাতালে কর্মরতদের সময় কাটছে গল্প আর আড্ডায়। হাসপাতালে বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা না থাকায় বহির্বিভাগে কর্মরতরাও আছেন দুর্ভোগে। 
হাসপাতালের কর্মচারীরা জানান, ওষুধ বরাদ্দ ও কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা ফিরে যাচ্ছে।
এলাকাবাসী জানায়, হাসপাতালের ভবনগুলোতে রয়েছে ভুতুড়ে পরিবেশ, গোটা এলাকা পরিণত হয়েছে গো-চারণভূমিতে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় চারটি ভবনে দেখা দিয়েছে ফাটল। প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়ে লোকবল নিয়োগের মাধ্যমে হাসপাতালটি দ্রুত চালু করার দাবি জানান তারা।
এদিকে শিশু হাসপাতালের বেহাল দশার কথা জানিয়ে ঝিনাইদহের জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ৫ জন চিকিৎসকসহ ৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। দ্রুত নিয়োগ দিয়ে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, জনবল নিয়োগ দিয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে হাসপাতালটি চালুর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার চিঠি দিয়ে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এফএ/এমএস