রূপগঞ্জে পাউবোর জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভূলতা ইউনিয়নের হাটাব বাজার এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে এ মার্কেটটি নির্মাণ করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষি সেচের সুবিধার্থে এনএনআইপি ব্লক এ /১ এর নারায়ণগঞ্জ নরসিংদী সেচ প্রকল্পের নামে রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের লিজ নেয়া সরকারি সম্পত্তি রয়েছে। এসব সম্পত্তি দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি এসব সম্পত্তি স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এক শ্রেণির প্রভাবশালী জবর দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো ) কৃষি সেচ কাজের সুধিধার্থে কিছু জমি সরকারি ভাবে একর করা হয়েছিল। হাটাব বাজারে ১৫ শতাংশ জমি সেচ ক্যানেল মেরামতের জন্য রাখা হয়েেেছ। উপজেলার ভূলতা ইউনিয়নের হাটাব বাজার এলাকায় ১৫ শতাংশ জমি পানি উন্নয়নয় বোর্ডের নামে একর করা হয়েছে। বর্তমানে সেচ ক্যানেলের কাজে এ জমিটি থেকে মাটি কেটে নিয়ে ক্যানেল মেরামত করা হচ্ছে।
সরকারি জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণের ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এ ব্যাপারে কেউ মুখ খুলতে চাচ্ছেন না।
সব শেষে ক্যানেল চৌকিদার মনির হোসেন জানান, সরকারি জায়গায় মার্কেট নির্মাণে বাধা দেয়া হয়েছে। তারা জোরপূর্বক মার্কেট নির্মাণ করছেন। নাজমুল বাহিনী সরকারি এ জমি দখল করে ইট দিয়ে আধা পাকা মার্কেট নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়ধারী নাজমুল হাসান ভূইয়া জানান, এ জমিটি আমার বাপ দাদার তালুকধারী সম্পত্তি। আমি আমার চাচাতো ভাইদের কাছ থেকে সাত শতাংশ জমি কিনে নিয়েছি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নাজমুলসহ তার বাহিনীকে সরকারি জমিতে মার্কেট নির্মাণ করতে নিষেধ করায় এলাকাবাসী হুমকি-ধামকির শিকার হচ্ছেন। তাই এলাকার সাধারণ মানুষ এদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। এছাড়া সরকারি জমি জবর দখল করে মার্কেট নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখলেও প্রশাসনের কোনো মাথা ব্যথা নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা ইসলাম বলেন, সরকারি জমিতে মার্কেট নির্মাণ করছে এমন অভিযোগ আগেই পেয়েছিলাম। কাজ বন্ধ করার জন্য কানুনগোকে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া কোনো উপজেলায় জেলা ছাত্রলীগের কার্যালয়ে করা সম্ভব নয়।
মীর আব্দুল আলীম/এসএস/এবিএস