ফরিদগঞ্জে বিদ্রোহীদের চাপে কোণঠাসা আ.লীগ-বিএনপি
তৃতীয় ধাপে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ইউপি নির্বাচন হচ্ছে আগামী ২৩ এপ্রিল। ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোট ৬৫ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন ১৪ জন এবং বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন ১৪ জন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দলীয় প্রতীক হাত পাখায় নির্বাচন করছেন ১১ জন প্রার্থী। দলীয় প্রতীকের বাইরে মনোনয়ন বঞ্চিতদের মধ্য থেকে অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যার জন্য অধিকাংশ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে।
যার ফলে নিজ দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে অস্বস্তিতে আছে নৌকা-ধানের শীষের প্রার্থীরা। এক প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ফরিদগঞ্জে ১৪ ইউপিতে আওয়ামী লীগের ১৭ ও বিএনপির ১৫ জন বিদ্রোহী প্রার্থী (নির্বাচন অফিসের তথ্য মতে স্বতন্ত্র) হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
তারা হলেন-২ নং বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন-অর-রশিদ (আনারস)। বিএনপির দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন নয়ন (চশমা)।
৪ নং সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন মামুন মুন্সী (আনারস)। বিএনপির দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বাবুল চৌধুরী (চশমা)।
৬ নং গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বুলবুল আহাম্মদ (আনারস)। বিএনপির দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইকবাল হোসেন (চশমা)। ৭ নং পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছেন কাজী মো. জহিরুল ইসলাম (চশমা)।
বিএনপির দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন মহসিন পাটোয়ারী (মোটরসাইকেল)। ৮ নং পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান রমজান আলী খান (চশমা)। বিএনপির মনোনীত প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন উপজেলা বিএনপির সহ-তাঁতী বিষয়ক সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান পাটোয়ারী (আনারস)।
৯ নং গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ’র মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আবু তাহের সরকার (আনারস)। ১০ নং গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ’র মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেব নির্বাচন করছেন সাবেক চেয়ারম্যান খাঁজা আহম্মেদ ভুঁইয়া (আনারস)।
১১ নং চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ’র মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল পাটোয়ারী (মোটরসাইকেল)। এ ইউনিয়নে সর্বোচ্চ সংখ্যক বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। যারা বিএনপি থেকে মনোনয়ন চেয়ে পায় নি তারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন- উপজেলা বিএনপির সদস্য শাহাদাত হোসেন টেলু (চশমা), সাবেক চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ পাটোয়ারী (আনারস)।
১২ নং চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন বর্তমান চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান পাটোয়ারী (চশমা)। বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মো.শাহজাহান (আনারস)।
১৫ নং রূপসা উত্তর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ’র দলীয় প্রতীক না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ নূরে রহমান সুমন পাটোয়ারী (আনারস), সাবেক উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাবেক দুইবারের চেয়ারম্যান ফজলুল কাদের মিলন চৌধুরী (চশমা)।
ইকরাম চৌধুরী/এসএস/পিআর