যৌতুক না পেয়ে তালাক নামায় স্বাক্ষরে বাধ্য করলো স্বামী
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ডাকবাংলা কলেজ পাড়ায় যৌতুক না দেয়ায় ঘরে আটকে রেখে সোনিয়া খাতুন নামে এক গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি তার বাবা-মায়ের সামনে জোরপূর্বক তালাক নামায় স্বাক্ষরে বাধ্য করেছে পাষণ্ড স্বামী।
সোনিয়ার বাবা লিটন বিশ্বাস জানান, দেড় বছর আগে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ডাকবাংলা বাজার এলাকার কলেজ পাড়ার শরিফুল ইসলামের ছেলে ওয়াশিকুর রহমানের সঙ্গে সোনিয়া খাতুনের বিয়ে হয়। মেয়ের সুখ-শান্তির জন্য কিছু দিন আগে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা দিয়ে জামাইকে একটি মোটরসাইকেল কিনে দেয়া হয়। এরপর আবারও জামাই আমার কাছে যৌতুক দাবি করে মেয়ের উপর নির্যাতন করতো।
নির্যাতিত সোনিয়া জানান, বিয়ের পর থেকে আমার বাবার কাছে যৌতুকের দাবি করে প্রতিনিয়ত আমার উপর নির্যাতন করে আসতো। গত সোমবার রাতের অন্ধকারে বাড়ি থেকে বাবা-মাসহ আমাকে বের করে দেয়া হয়। পরদিন সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন বিক্ষোভ করে। বাজারের লোকজন নিজ উদ্যোগে সালিসে বসেন। কিন্ত সালিসে ছেলের পরিবারের কেউ উপস্থিত হয়নি। সিদ্ধান্ত হয় ৭ দিন পর মীমাংসা হবে। 
তিনি আরও জানান, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি ৩ বার আত্মহত্যার চেষ্টাও করে। গত সোমবার তার বাবা ও মা তার শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে গেলে, রাতে বাড়ির লোকজন মিলে মা, বাবা ও তাকে মারপিট শুরু করে। তারা অজ্ঞান হয়ে গেলে তাদের স্থানীয় ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। ওই রাতেই সোনিয়ার কাছ থেকে জোরপূর্বক তালাক নামায় স্বাক্ষর নিয়ে তার আড়াই মাসের শিশু সন্তানকে রেখে তাদের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। সকালে ওই শিশুটিকে উদ্ধার করে সোনিয়ার কাছে ফিরিয়ে দেয় মাতব্বররা। এ ঘটনার প্রকৃত বিচার দাবি করেন গৃহবধূ সোনিয়া।
সাধুহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজির হোসেন সোনিয়ার নির্যাতনের কথা স্বীকার করে জানান, আগামী ৭ দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করা হবে।
ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি শুনেছি। সোনিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এসএস/এমএস