হাত পুড়িয়ে দিয়ে গৃহকর্মী শিশুর দাঁত ভেঙে দিল চাকরিজীবী দম্পতি
কথা মতো কাজ করতে না পারায় গরম পানিতে চুবিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে হাতের কব্জি। মাথায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন। ভেঙে দেয়া হয়েছে তার দুটি দাঁতও। তের বছরের মা হারা এক শিশু গৃহকর্মীকে এমন অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে গাইবান্ধায়।
শরীর জুড়ে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে শিশুটি এখন গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। চিকিৎসা শুরু হলেও শিশুটি এখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রোজিনা আক্তার গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের বেকরির চরের দিনমজুর রবিউল ইসলামের মেয়ে। দুই বোন আর এক ভাইকে নিয়ে অভাবের সংসার খামার বিরাহিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী রোজিনার লেখাপড়া তিন বছর আগে বন্ধ হয়ে যায়। ৮ মাস আগে বাবার সংসারে অভাব অনটনের কারণে মা হারা এই শিশুটি গৃহকর্মীর কাজ নেয় ঢাকার সাভারের পৌরসভার কর্মচারী রুবেল মিয়ার বাসায়। রুবেল মিয়া ও তার স্ত্রী শাহনাজ বেগম দু’জনেই চাকরিজীবী হওয়ায় মেয়েটিকে বাড়িতে দরজা-জানালা বন্ধ করে তালা দিয়ে রাখতেন।
গৃহকর্ত্রী শাহনাজ বেগম সুন্দরগঞ্জ শহরের থানাপাড়ার কদর আলীর মেযে। কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এই শিশুটি গৃহকর্তা রুবেল মিয়া আর তার স্ত্রী সন্তানের সংসারে কাজ করতো। কাজে সামান্য ভুল হলেই বেদম মারপিট করতেন শাহনাজ।

শিশুটির বাবা রবিউল ইসলাম জানালেন, অভাবের কারণে মেয়েকে কাজ করতে পাঠানো হয়। এক সপ্তাহ আগে ভাত রান্না করতে গিয়ে পানি বেশি পড়ে যাওয়ায় ভাত নরম হয়। ক্ষীপ্ত শাহনাজ তাকে মারপিট শুরু করেন। এক পর্যায়ে হাতের কব্জি গরম পানিতে চুবিয়ে দেন। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে রোজিনা। এরপর চিকিৎসা তো দূরের কথা তার অসুস্থ মেযেকে শাহনাজের বাবা কদর আলিকে দিয়ে গত শনিবার ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়। মেয়ের অবস্থা দেখে তিনি তাকে গাইবান্ধায় হাসপাতালে ভর্তি করেন।
তিনি বলেন, আগেও মারপিটের খবর পেয়ে মেয়েকে তিনি ফেরত চেয়েছিলেন।
আধুনিক সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আশরাফুল ইসলাম জানালেন, শিশুটি মানসিকভাবে অনেকটাই বিপর্যস্ত। তার উন্নত চিকিৎসার প্রযোজন।
রোজিনা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, মারপিট শুধু নয়, সব সময় নির্মম আচরণ করতেন শাহনাজ বেগম। তার শাস্তি হওয়া প্রযোজন। এ ব্যাপারে অনেক চেষ্টা করেও অভিযুক্ত শাহনাজের সঙ্গে কথা বলা যায়নি।
তবে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আশরাফুজ্জামান বলেন, বিষয়টি সাভার থানার আওতাভুক্ত। তাই শিশুটির বাবার দেয়া অভিযোগ পত্রটি ব্যবস্থা নেবার জন্য সাভার থানায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
অমিত দাশ/এমএএস/পিআর