তৃতীয় প্রান্তিকে ধীরে ধীরে অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর আশা এমসিসিআই’র

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১২:৫৯ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

 

সামগ্রিকভাবে চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে দেশের অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার আভাস দিলেও পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া এখনো নাজুক। রপ্তানি ও রেমিট্যান্সে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও উচ্চ আমদানি ব্যয় ও স্থায়ী মূল্যস্ফীতি নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে, বলে প্রক্ষেপণ করেছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)।

তবে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও অভ্যন্তরীণ চাপের প্রেক্ষাপটে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সমন্বিত ও সতর্ক নীতিপদক্ষেপ অব্যাহত রাখা জরুরি।

চলতি অর্থবছর ২০২৫-২৬ (এফওয়াই২৬)-এর অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়কালের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পর্যালোচনায় এ মন্তব্য করেছে এমসিসিআই।

তৃতীয় প্রান্তিকে চেম্বারের প্রক্ষেপণে বলা হয়েছে, দেশের প্রধান সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকে ধীরগতির হলেও ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বর্ধিত বাণিজ্য ঘাটতির চাপ অর্থনীতির ওপর বহাল থাকবে বলে ধারণা করা হয়েছে।

গত নয় মাসের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে চেম্বার জানিয়েছে, তৃতীয় প্রান্তিকে রপ্তানি আয় ধারাবাহিকভাবে বাড়তে পারে। জানুয়ারিতে সম্ভাব্য রপ্তানি আয় ৪ দশমিক ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে মার্চে তা বেড়ে ৪ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। বৈদেশিক চাহিদা কিছুটা জোরদার হওয়া এবং রপ্তানি চালান বৃদ্ধির ফলে এ প্রবৃদ্ধি আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, আমদানিও ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। জানুয়ারিতে সম্ভাব্য আমদানি ব্যয় ৫ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার থেকে মার্চে ৬ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে পারে। শিল্প কার্যক্রম ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ার ইঙ্গিত থাকলেও রপ্তানির তুলনায় আমদানির পরিমাণ বেশি থাকায় বাণিজ্য ঘাটতির চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।

রেমিট্যান্স প্রবাহ কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। জানুয়ারিতে সামান্য কমার পর ফেব্রুয়ারি ও মার্চে প্রবাসী আয় বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। মার্চে রেমিট্যান্স ৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

চেম্বারের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ জানুয়ারিতে ২৮ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার থেকে মার্চে ২৮ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে পারে। যদিও বৃদ্ধি সীমিত, তবু এটি বহিঃখাতের স্থিতিশীলতার দিকে ধীর অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়।

মূল্যস্ফীতি এখনো উচ্চ পর্যায়ে থাকবে। ফেব্রুয়ারিতে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং মার্চে সামান্য কমে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ হতে পারে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির চাপ পুরোপুরি কাটছে না, তবে মার্চে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত রয়েছে।

আইএইচও/এমএমএআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।